Dhaka ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লখপুরে মৎস্য ঘেরের বেড়ি বাঁধে অমৌসুমি তরমুজ চাষে সফলতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ২৮৯ Time View
শেখ সৈয়দ আলী, ফকিরহাট:  বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নে মৎস্য ঘেরের বেড়ি বাঁধে অমৌসুমি তরমুজ চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন কৃষক মোঃ রাজু মোড়ল। এই অসময় তরমুজ পেয়ে যেমন তৃপ্ত হচ্ছে মানুষ, তেমনি ভাল মূল্য পেয়ে লাভবান হচ্ছে চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের বল্পবপুর গ্রামের মোঃ রাজু মোড়ল  তার মৎস্য ঘেরের আইলে অমৌসুমি তরমুজ চাষ করেছেন। প্রতিটা তরমুজের ওজন প্রায় তিন থেকে সারে তিন কেজি।
স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রকল্পের (এস এ সি পি) এর আওতায় চাষীরা মোঃ রাজু মোড়ল তার নিজ এলাকায় কৃষি বিষয়ক কারিগরি সেবার মাধ্যমে একই জমিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন রকম ফসলের চাষ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। তিনি চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রায়  ৫০ শতক জমির আইলে অমৌসুম জাতের তরমুজ ড্রাগন কিং ও মার্সোলো  চাষ করেছেন। এতে তার আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং প্রায় তিন মাসে তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়েছে।
এখন তার তরমুজ ক্ষেতে প্রায় ৮০০টির বেশি তরমুজ আছে। এসব তরমুজ খেতে খুবই সুস্বাদু এবং দেখতেও বেশ দৃষ্টিনন্দন। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং তিনি আনুমানিক ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করেন।
একই উপজেলার অন্য ইউনিয়নের অনেকে একই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে তারাও ফসল বাজারে তুলতে শুরু করেছেন। একই সাথে তারা জমির আইল ও বাঁধে শষা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢেঁড়শ, করলা এবং জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। সামনের শীত মৌসুমে বোরো ধান, তরমুজ, সরিষা, এবং বাঁধে ১২ মাস সবজি চাষ করবেন বলে জানান।
লখপুর ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারি অভিজিৎ গাইন ও জয়নাব খাতুন  বলেন, অমৌসুমি তরমুজ চাষ করে আমার ব্লকের চাষীরা উপকৃত ও স্বাবলম্বী হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের সফলতা দেখতে পেয়ে আমি আনন্দবোধ করছি। অমৌসুমী তরমুজ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে চাহিদাও ব্যাপক।আমাদের উপজেলা কৃষিবিদ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন স্যার চাষীদের নতুন নতুন সবজি এবং ফল চাষে আগ্রহ বাড়াতে আমাদের উৎসাহ ও সহযোগীতা করেন সব সময়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাখায়াত হোসেন বলেন-আমার ফকিরহাট উপজেলার মাটি সোনার চাইতে খাটি এ অঞ্চলের মাটি তরমুজ শষা সামমাম চাষ করার জন্য বেশ উপযোগী। চাষি মোঃ রাজু মোড়ল সহ উপজেলার অন্য ইউনিয়নে অসময় তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। তাদেরকে বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। চাষীরা আমাদের দেয়া জাতের বীজের তরমুজ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি চাষও করে থাকেন। এভাবে চাষীদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এলাকার সকল পতিত জমি ও ঘেরের বেড়ি বাঁধে  চাষাবাদের মাধ্যমে চাষিদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা যাবে।
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

লখপুরে মৎস্য ঘেরের বেড়ি বাঁধে অমৌসুমি তরমুজ চাষে সফলতা

Update Time : ১১:০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
শেখ সৈয়দ আলী, ফকিরহাট:  বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নে মৎস্য ঘেরের বেড়ি বাঁধে অমৌসুমি তরমুজ চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন কৃষক মোঃ রাজু মোড়ল। এই অসময় তরমুজ পেয়ে যেমন তৃপ্ত হচ্ছে মানুষ, তেমনি ভাল মূল্য পেয়ে লাভবান হচ্ছে চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের বল্পবপুর গ্রামের মোঃ রাজু মোড়ল  তার মৎস্য ঘেরের আইলে অমৌসুমি তরমুজ চাষ করেছেন। প্রতিটা তরমুজের ওজন প্রায় তিন থেকে সারে তিন কেজি।
স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রকল্পের (এস এ সি পি) এর আওতায় চাষীরা মোঃ রাজু মোড়ল তার নিজ এলাকায় কৃষি বিষয়ক কারিগরি সেবার মাধ্যমে একই জমিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন রকম ফসলের চাষ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। তিনি চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রায়  ৫০ শতক জমির আইলে অমৌসুম জাতের তরমুজ ড্রাগন কিং ও মার্সোলো  চাষ করেছেন। এতে তার আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং প্রায় তিন মাসে তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়েছে।
এখন তার তরমুজ ক্ষেতে প্রায় ৮০০টির বেশি তরমুজ আছে। এসব তরমুজ খেতে খুবই সুস্বাদু এবং দেখতেও বেশ দৃষ্টিনন্দন। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং তিনি আনুমানিক ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করেন।
একই উপজেলার অন্য ইউনিয়নের অনেকে একই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে তারাও ফসল বাজারে তুলতে শুরু করেছেন। একই সাথে তারা জমির আইল ও বাঁধে শষা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢেঁড়শ, করলা এবং জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। সামনের শীত মৌসুমে বোরো ধান, তরমুজ, সরিষা, এবং বাঁধে ১২ মাস সবজি চাষ করবেন বলে জানান।
লখপুর ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারি অভিজিৎ গাইন ও জয়নাব খাতুন  বলেন, অমৌসুমি তরমুজ চাষ করে আমার ব্লকের চাষীরা উপকৃত ও স্বাবলম্বী হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের সফলতা দেখতে পেয়ে আমি আনন্দবোধ করছি। অমৌসুমী তরমুজ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে চাহিদাও ব্যাপক।আমাদের উপজেলা কৃষিবিদ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন স্যার চাষীদের নতুন নতুন সবজি এবং ফল চাষে আগ্রহ বাড়াতে আমাদের উৎসাহ ও সহযোগীতা করেন সব সময়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাখায়াত হোসেন বলেন-আমার ফকিরহাট উপজেলার মাটি সোনার চাইতে খাটি এ অঞ্চলের মাটি তরমুজ শষা সামমাম চাষ করার জন্য বেশ উপযোগী। চাষি মোঃ রাজু মোড়ল সহ উপজেলার অন্য ইউনিয়নে অসময় তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। তাদেরকে বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। চাষীরা আমাদের দেয়া জাতের বীজের তরমুজ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি চাষও করে থাকেন। এভাবে চাষীদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এলাকার সকল পতিত জমি ও ঘেরের বেড়ি বাঁধে  চাষাবাদের মাধ্যমে চাষিদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা যাবে।