বিদেশ : ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। উদ্ধারকারী কর্মীরা অভিযান চালিয়ে উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিতে আটকা পড়া অন্তত এক হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাতে প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর রয়টার্সের। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, বুধবার গভীর রাতে রাজধানী দিল্লিতে তুমুল বৃষ্টিপাত হয়েছে। দিল্লির পূর্বাঞ্চলে ও এর আশপাশের এলাকায় মোট ১৪৭ মিলিমিটার (৫.৮ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতে কেবল দিল্লিতেই সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তরাখÐ রাজ্যে তিনজন মারা গেছেন। সেখানে পানির ¯্রােতে দুটি সেতুর কিছু অংশ ভেসে গেছে। এই রাজ্যে অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে যোগাযোগে বিঘœ ঘটছে। টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলা কর্মকর্তা সৌরভ গহরওয়ার জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা কেদারনাথ রুটের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়া এক হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছেন। কেদারনাথের একটি জাতীয় মহাসড়ক বৃষ্টির পানিতে ভেঙে গেছে। প্রতিবেশী হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় দুজন মারা গেছেন এবং প্রায় ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে উদ্ধারকর্মীদের দড়ি দিয়ে ¯্রােত পার হতে দেখা যায়। হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলার জেলা কর্মকর্তা জ্যোতি রানা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘সেখানকার পরিস্থিতি বেশ খারাপ এবং আমরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষের মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’’ কিছু জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, বিগত কয়েক বছরে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের পাহাড়ে দেখা দেওয়া চরম বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং প্রাণঘাতী ভ‚মিধ্বসের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের চা বাগান ও পাহাড়ি গ্রামে ভয়াবহ ভ‚মিধ্বসে ২৯০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাতের পর দফায় দফায় ভ‚মিধ্বসে মাটির নিচে চাপা পড়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ, যারা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।