Dhaka ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তাল ভেনেজুয়েলা, পথে পথে বিক্ষোভ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০২৪
  • ২৫০ Time View

বিদেশ : ভেনেজুয়েলা বিতর্কিত নির্বাচন ও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। তবে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। খবর বিবিসির। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ দেশটির মধ্য কারাকাসের রাস্তায় নেমে আসে। কেউ কেউ শহরের চারপাশের পাহাড়ি এলাকা কিংবা বস্তি থেকে কয়েক মাইল পথ হেঁটে রওয়ানা দেন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে। নিকোলাস মাদুরো নিজেকে প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী দাবির পরদিনই ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে এই বিক্ষোভ শুরু। দেশটির বিরোধী দল মাদুরোর বিজয়ের ঘোষণাকে জালিয়াতি বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে, বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস অন্তত ৭৩ দশমিক দুই শতাংশ ভোট পেয়ে নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপেও স্পষ্ট জয়ের আভাস ছিল বিরোধী পক্ষের। গত ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় প্রেসিডেন্ট মাদুরো। তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশটির অর্থনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করে। যা নিয়ে দেশে অসন্তোষও তৈরি হয়। পরে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গঞ্জালেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলি একত্র হয়েছিল। সোমবার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভকারীরা যখন রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে যাচ্ছিল তখন তাদরে ছত্রভঙ্গ করতে কারাকাসের রাস্তায় জল কামানসহ সামরিক বাহিনী এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিতি ছিল। এ সময় তারা স্বাধীনতার পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকে। সেইসঙ্গে সরকারের পতনেরও আহŸান জানান বিক্ষোভকারীরা। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজগুলোয় দেখা যাচ্ছে, হাইওয়েতে টায়ার জ¦লছে, রাস্তায় বিপুল সংখ্যক মানুষ। অন্যদিকে মোটরসাইকেল থেকেই পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। কোনো কোনো এলাকায় প্রেসিডেন্ট মাদুরোর পোস্টার ছিঁড়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে রাস্তায় জ¦ালিয়ে দেওয়া হচ্ছে টায়ার, গাড়ি এবং আবর্জনাও। সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র পুলিশ, সামরিক বাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একই সময় তারা শহরের চারপাশের বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পাওলা সারজালেজো নামের ৪১ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেন, নির্বাচনে ভয়াবহ জালিয়াতি! ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে আমরা বিজয়ী হয়েছি কিন্তু তারা একই কাজ আবারও করলো। আমাদের বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা তরুণদের জন্য, আমাদের দেশের একটি উন্নত ভবিষ্যৎ চাই। গায়ে ভেনেজুয়েলার পতাকা বেধে বিক্ষোভে নামেন ক্রিস্টোবাল মার্টিনেজ। তিনি মনে করেন, এই নির্বাচনটি ছিল একটি প্রতারণা। তিনি বলেন, লা লুচা এবং আশেপাশের এলাকার বেশিরভাগ তরুণরা এমন একটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছে যা তরুণদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আমাদের মধ্যে অনেকেই বেকার এবং অধিকাংশই পড়াশোনা করে না। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট মাদুরো দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকলেও দেশে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রেসিডেন্ট শ্যাভেজ মারা যাওয়ার পর মাদুরোর নেতৃত্বে দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিক্ষোভে আসা এক যুবক বলেন, আমরা একটি পরিবর্তন চাই, আমরা আমাদের দেশের থেকে একটি ভালো চাকরি চাই। ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভের অংশ হিসেবে রাস্তা অবরোধ করা বা বিশৃঙ্খলা করে আইন ভাঙলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নির্বাচনি সামগ্রী ধ্বংস করাসহ সহিংসতার অভিযোগে এই বিক্ষোভ চলাকালে ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে ঊর্ধ্বতন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ঘোষিত ফলাফল দ্রæত গণনা এবং যথাযথভাবে যাচাই না করে যেভাবে ফলাফলে ঘোষণা করা হয়েছে তা মানুষের প্রকৃত ভোটের সঙ্গে বৈপরীত্য থাকতে পারে। “এটিই আমাদের মূল উদ্বেগের জায়গা,” যোগে করেন তারা। তাই আমরা ভেনেজুয়েলার নির্বাচনি কর্তৃপক্ষকে প্রকৃত ডেটা প্রকাশ করতে বলেছি, যা মানুষের প্রদত্ত ভোটের প্রতিফলন ঘটায়। তবে, ভেনিজুয়েলার প্রতি তাদের নিষেধাজ্ঞা নীতির ফলাফল কী হবে সেই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি। অর্গানাইজেশন অফ আমেরিকান স্টেটস (ওএএস) সোমবার ঘোষণা করেছে, ভেনেজুয়েলার এই ফলাফল নিয়ে স্থায়ী কাউন্সিলের বুধবার একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

উত্তাল ভেনেজুয়েলা, পথে পথে বিক্ষোভ

Update Time : ০১:০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০২৪

বিদেশ : ভেনেজুয়েলা বিতর্কিত নির্বাচন ও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। তবে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। খবর বিবিসির। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ দেশটির মধ্য কারাকাসের রাস্তায় নেমে আসে। কেউ কেউ শহরের চারপাশের পাহাড়ি এলাকা কিংবা বস্তি থেকে কয়েক মাইল পথ হেঁটে রওয়ানা দেন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে। নিকোলাস মাদুরো নিজেকে প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী দাবির পরদিনই ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে এই বিক্ষোভ শুরু। দেশটির বিরোধী দল মাদুরোর বিজয়ের ঘোষণাকে জালিয়াতি বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে, বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস অন্তত ৭৩ দশমিক দুই শতাংশ ভোট পেয়ে নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপেও স্পষ্ট জয়ের আভাস ছিল বিরোধী পক্ষের। গত ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় প্রেসিডেন্ট মাদুরো। তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশটির অর্থনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করে। যা নিয়ে দেশে অসন্তোষও তৈরি হয়। পরে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গঞ্জালেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলি একত্র হয়েছিল। সোমবার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভকারীরা যখন রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে যাচ্ছিল তখন তাদরে ছত্রভঙ্গ করতে কারাকাসের রাস্তায় জল কামানসহ সামরিক বাহিনী এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিতি ছিল। এ সময় তারা স্বাধীনতার পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকে। সেইসঙ্গে সরকারের পতনেরও আহŸান জানান বিক্ষোভকারীরা। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজগুলোয় দেখা যাচ্ছে, হাইওয়েতে টায়ার জ¦লছে, রাস্তায় বিপুল সংখ্যক মানুষ। অন্যদিকে মোটরসাইকেল থেকেই পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। কোনো কোনো এলাকায় প্রেসিডেন্ট মাদুরোর পোস্টার ছিঁড়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে রাস্তায় জ¦ালিয়ে দেওয়া হচ্ছে টায়ার, গাড়ি এবং আবর্জনাও। সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র পুলিশ, সামরিক বাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একই সময় তারা শহরের চারপাশের বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পাওলা সারজালেজো নামের ৪১ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেন, নির্বাচনে ভয়াবহ জালিয়াতি! ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে আমরা বিজয়ী হয়েছি কিন্তু তারা একই কাজ আবারও করলো। আমাদের বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা তরুণদের জন্য, আমাদের দেশের একটি উন্নত ভবিষ্যৎ চাই। গায়ে ভেনেজুয়েলার পতাকা বেধে বিক্ষোভে নামেন ক্রিস্টোবাল মার্টিনেজ। তিনি মনে করেন, এই নির্বাচনটি ছিল একটি প্রতারণা। তিনি বলেন, লা লুচা এবং আশেপাশের এলাকার বেশিরভাগ তরুণরা এমন একটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছে যা তরুণদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আমাদের মধ্যে অনেকেই বেকার এবং অধিকাংশই পড়াশোনা করে না। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট মাদুরো দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকলেও দেশে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রেসিডেন্ট শ্যাভেজ মারা যাওয়ার পর মাদুরোর নেতৃত্বে দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিক্ষোভে আসা এক যুবক বলেন, আমরা একটি পরিবর্তন চাই, আমরা আমাদের দেশের থেকে একটি ভালো চাকরি চাই। ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভের অংশ হিসেবে রাস্তা অবরোধ করা বা বিশৃঙ্খলা করে আইন ভাঙলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নির্বাচনি সামগ্রী ধ্বংস করাসহ সহিংসতার অভিযোগে এই বিক্ষোভ চলাকালে ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে ঊর্ধ্বতন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ঘোষিত ফলাফল দ্রæত গণনা এবং যথাযথভাবে যাচাই না করে যেভাবে ফলাফলে ঘোষণা করা হয়েছে তা মানুষের প্রকৃত ভোটের সঙ্গে বৈপরীত্য থাকতে পারে। “এটিই আমাদের মূল উদ্বেগের জায়গা,” যোগে করেন তারা। তাই আমরা ভেনেজুয়েলার নির্বাচনি কর্তৃপক্ষকে প্রকৃত ডেটা প্রকাশ করতে বলেছি, যা মানুষের প্রদত্ত ভোটের প্রতিফলন ঘটায়। তবে, ভেনিজুয়েলার প্রতি তাদের নিষেধাজ্ঞা নীতির ফলাফল কী হবে সেই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি। অর্গানাইজেশন অফ আমেরিকান স্টেটস (ওএএস) সোমবার ঘোষণা করেছে, ভেনেজুয়েলার এই ফলাফল নিয়ে স্থায়ী কাউন্সিলের বুধবার একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।