Dhaka ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলকপাট  নিয়ে ঝামেলা,মোরেলগঞ্জে আমন চাষবাদ ব্যাহত হবার আশঙ্কা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০২৪
  • ২৩৯ Time View

মেহেদী হাসান লিপন, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের একটি জলকপাট  থেকে পানি উঠানো নিয়ে দু’পক্ষের ঝামেলার কারনে আমন চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে কৃষকরা। তারা এ জলকপাট নিয়ে ঝামেলার দ্রুত সমাধান চাচ্ছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পেল্ডারের খাউলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব-চিপাবারইখালীর স্লুইজ গেটের পানি উঠানো – নামানো নিয়ে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারনে সাধারণ কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। একপক্ষ পানি উত্তোলনের জন্য গেট খুলে দিচ্ছে। আবার অপরপক্ষ পানি বন্ধ করতে জলকপাট বন্ধ করে দিচ্ছে। এনিয়ে দু’গ্রুপে চলছে উত্তেজনা। স্লুইস গেটটির নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয়ভাবে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া থাকলেও তাদের কেউ তোয়াক্কা করছেনা।
জলকপাট  নিয়ন্ত্রন কমিটির সভাপতি মজনু হাওলাদার বলেন, কিছু জমির বীজতলা রক্ষার জন্য গেটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় কৃষক শাজাহান শেখ, মনির হাওলাদার, মোশারেফ হাওলাদার ও মজারাজ হোসেন বলেন, মজনু হাওলাদার অসৎ উদ্দেশে গেটটি বন্ধ করে রেখেছ।ইউনিয়ন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহনওয়াজ বলেন, ওই গেটটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। এখানে প্রায় ১ হাজার বিঘা জমিতে আমন চাষ চলছে। গেটটি খুলে রাখলে কিছু কৃষকের সমস্যা হয় তবে বেশিরভাগ কৃষক উপকৃত হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুম হাওলাদার বলেন, পানির অভাবে বিজতলা পুড়ে যাচ্ছে। স্লুইস গেটটি খুলে দেয়ার পরে আবার একটি মহল বন্ধ করে দিয়েছে।অল্প পানিতে মাছ ধরার জন্য এ মহলটি গেট বন্ধ করে হাজার হাজার একর জমির আমন আবাদ নষ্ট করার পায়তারা করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন ভরা আমন মৌসুম তাই কৃষকদের বিজতলায় পানির প্রয়োজন। তবে স্লুইজ গেট তদারকির দ্বায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কমিটির। সেই কমিটিতেও আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নেই। তবে কৃষক যাতে পর্যাপ্ত পানি পায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম তারেক সুলতান বলেন, স্লুইস গেট বন্ধ করার ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ফসল রক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

জলকপাট  নিয়ে ঝামেলা,মোরেলগঞ্জে আমন চাষবাদ ব্যাহত হবার আশঙ্কা

Update Time : ০১:০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০২৪

মেহেদী হাসান লিপন, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের একটি জলকপাট  থেকে পানি উঠানো নিয়ে দু’পক্ষের ঝামেলার কারনে আমন চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে কৃষকরা। তারা এ জলকপাট নিয়ে ঝামেলার দ্রুত সমাধান চাচ্ছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পেল্ডারের খাউলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব-চিপাবারইখালীর স্লুইজ গেটের পানি উঠানো – নামানো নিয়ে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারনে সাধারণ কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। একপক্ষ পানি উত্তোলনের জন্য গেট খুলে দিচ্ছে। আবার অপরপক্ষ পানি বন্ধ করতে জলকপাট বন্ধ করে দিচ্ছে। এনিয়ে দু’গ্রুপে চলছে উত্তেজনা। স্লুইস গেটটির নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয়ভাবে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া থাকলেও তাদের কেউ তোয়াক্কা করছেনা।
জলকপাট  নিয়ন্ত্রন কমিটির সভাপতি মজনু হাওলাদার বলেন, কিছু জমির বীজতলা রক্ষার জন্য গেটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় কৃষক শাজাহান শেখ, মনির হাওলাদার, মোশারেফ হাওলাদার ও মজারাজ হোসেন বলেন, মজনু হাওলাদার অসৎ উদ্দেশে গেটটি বন্ধ করে রেখেছ।ইউনিয়ন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহনওয়াজ বলেন, ওই গেটটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। এখানে প্রায় ১ হাজার বিঘা জমিতে আমন চাষ চলছে। গেটটি খুলে রাখলে কিছু কৃষকের সমস্যা হয় তবে বেশিরভাগ কৃষক উপকৃত হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুম হাওলাদার বলেন, পানির অভাবে বিজতলা পুড়ে যাচ্ছে। স্লুইস গেটটি খুলে দেয়ার পরে আবার একটি মহল বন্ধ করে দিয়েছে।অল্প পানিতে মাছ ধরার জন্য এ মহলটি গেট বন্ধ করে হাজার হাজার একর জমির আমন আবাদ নষ্ট করার পায়তারা করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন ভরা আমন মৌসুম তাই কৃষকদের বিজতলায় পানির প্রয়োজন। তবে স্লুইজ গেট তদারকির দ্বায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কমিটির। সেই কমিটিতেও আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নেই। তবে কৃষক যাতে পর্যাপ্ত পানি পায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম তারেক সুলতান বলেন, স্লুইস গেট বন্ধ করার ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ফসল রক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।