Dhaka ১১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচার আকুতি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪
  • ২৮২ Time View

আবু-হানিফ,বাগেরহাট অফিসঃ বাগেরহাটের শরণখোলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ
বাবাকে মেরে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায়
বাবা আবুল হারেজ খানকে (৮৭) একাধিকবার মারধর করেন তার ছেলে। এমনকি
ছেলের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি তার মা নুরজাহান বেগমও (৭৫)।
সর্বশেষ গত ১৮ জুন রাতে হারেজ খানকে মেরে আহত করেন নজরুল
ইসলামসহ তার দুই ছেলে নাজমুল হাসান রনি ও মাইনুল ইসলাম। এঘটনা
ছেলের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অসহায়
ববা আবুল হারেজ খান।
লিখিত অভিযোগ জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে দরজা ভেঙে হারেজ খানের ঘরে
প্রবেশ করেন ছেলে নজরুল ইসলাম খান ও তার দুই নাতি। ঘরে ঢুকেই জমি
লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তারা। এতে রাজি না হওয়ায় বৃদ্ধ হারেজ
খানকে তারা তিনজনে মিলে বেদম মারধর করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা
এসে ওই রাতে আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এর
আগে গত বছরের (২০২৩) ২৫ জুন একই দাবিতে বাবা-মা দুজনেকই মারধর
করেন সাবেক সেনা সদস্য ছেলে নজরুল ইসলাম। ওই ঘটনায় হারেজ খান
বাদি হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা তুলে
নেওয়ার জন্যও বাবাকে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা
হয়েছে।
উপজেলা সদর রায়েন্দা পাঁচরাস্তা এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ আবুল হারেজ খান
বলেন, আমার সাত ছেলে ও ছয় মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে নজরুল সবার বড়। ছেলে-
মেয়েরা সবাই যে জার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আমার নামে যেটুকু জমি
আছে তাতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছি। এছাড়া বেড়িবাঁধে নেওয়া
জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে টাকা পেয়েছি তাসহ তিনটি দোকান ঘর
ভাড়া থেকে যা পাই তাদিয়েই আমার সংসার খরচ ও দুজনের চিকিৎসার খরচ
চলে। কিন্তু বড় ছেলে নজরুল আমার সেই জমি ও টাকা আত্মসাত করতে
মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে সে আমার পাঁরাস্তা এলাকার একটি দোকান
ঘর দখল করে নিয়েছে।
হারেজ খান আরো বলেন, আমার বড় ছেলে সম্পত্তির লোভে আমাকে ও আমার
স্ত্রীকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারে। রাতে ঘুমাইতে পারিনা। চোখ
বুঝলেই মনে হয় নজরুল আমাকে মারতে আসতেছে। ছেলের নির্যাতনের হাত
থেকে বাঁচতে আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
বাবা-মাকে নির্যাতনের ব্যাপারে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নজরুল
ইসলাম খানের ০১৭৪৬২১৫১৮৮ নম্বরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা
হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
বলেন, আবুল হারেজ খান নামে এক বৃদ্ধ তার ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের
অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা প্রমানিত হলে আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচার আকুতি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের

Update Time : ০৯:০২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪

আবু-হানিফ,বাগেরহাট অফিসঃ বাগেরহাটের শরণখোলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ
বাবাকে মেরে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায়
বাবা আবুল হারেজ খানকে (৮৭) একাধিকবার মারধর করেন তার ছেলে। এমনকি
ছেলের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি তার মা নুরজাহান বেগমও (৭৫)।
সর্বশেষ গত ১৮ জুন রাতে হারেজ খানকে মেরে আহত করেন নজরুল
ইসলামসহ তার দুই ছেলে নাজমুল হাসান রনি ও মাইনুল ইসলাম। এঘটনা
ছেলের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অসহায়
ববা আবুল হারেজ খান।
লিখিত অভিযোগ জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে দরজা ভেঙে হারেজ খানের ঘরে
প্রবেশ করেন ছেলে নজরুল ইসলাম খান ও তার দুই নাতি। ঘরে ঢুকেই জমি
লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তারা। এতে রাজি না হওয়ায় বৃদ্ধ হারেজ
খানকে তারা তিনজনে মিলে বেদম মারধর করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা
এসে ওই রাতে আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এর
আগে গত বছরের (২০২৩) ২৫ জুন একই দাবিতে বাবা-মা দুজনেকই মারধর
করেন সাবেক সেনা সদস্য ছেলে নজরুল ইসলাম। ওই ঘটনায় হারেজ খান
বাদি হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা তুলে
নেওয়ার জন্যও বাবাকে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা
হয়েছে।
উপজেলা সদর রায়েন্দা পাঁচরাস্তা এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ আবুল হারেজ খান
বলেন, আমার সাত ছেলে ও ছয় মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে নজরুল সবার বড়। ছেলে-
মেয়েরা সবাই যে জার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আমার নামে যেটুকু জমি
আছে তাতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছি। এছাড়া বেড়িবাঁধে নেওয়া
জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে টাকা পেয়েছি তাসহ তিনটি দোকান ঘর
ভাড়া থেকে যা পাই তাদিয়েই আমার সংসার খরচ ও দুজনের চিকিৎসার খরচ
চলে। কিন্তু বড় ছেলে নজরুল আমার সেই জমি ও টাকা আত্মসাত করতে
মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে সে আমার পাঁরাস্তা এলাকার একটি দোকান
ঘর দখল করে নিয়েছে।
হারেজ খান আরো বলেন, আমার বড় ছেলে সম্পত্তির লোভে আমাকে ও আমার
স্ত্রীকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারে। রাতে ঘুমাইতে পারিনা। চোখ
বুঝলেই মনে হয় নজরুল আমাকে মারতে আসতেছে। ছেলের নির্যাতনের হাত
থেকে বাঁচতে আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
বাবা-মাকে নির্যাতনের ব্যাপারে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নজরুল
ইসলাম খানের ০১৭৪৬২১৫১৮৮ নম্বরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা
হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
বলেন, আবুল হারেজ খান নামে এক বৃদ্ধ তার ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের
অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা প্রমানিত হলে আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।