শেখ সৈয়দ আলী, ফকিরহাটঃ বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া ইউনিয়নের গাবখালি বাজারের স্থায়ী বাসিন্দা ও প্রবীণ রাজনীতিক মসিউদ্দিন মোড়ল (৫৮) দীর্ঘ চার দশক ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজপথের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে পরিচিত। শৈশব ও কৈশোর থেকেই স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা মসিউদ্দিন মোড়ল জাতীয়তাবাদী যুবদলের মাধ্যমে রাজনীতির পাঠ শুরু করেন।
নিষ্ঠা ও শ্রমের বদৌলতে তিনি পরবর্তীতে বাহিরদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করেন। দলের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম আনুগত্য ও বলিষ্ঠ সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয়ে তিনি পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন এবং বর্তমানে বাহিরদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনে দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সর্বাগ্রে থেকে তিনি একাধিকবার জেল-জুলুম সহ্য করেছেন এবং রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু নীতি ও আদর্শ থেকে কখনোই পিছপা হননি।
রাজনীতির পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক হিসেবেও মসিউদ্দিন মোড়লের রয়েছে দীর্ঘ ও সফল অভিজ্ঞতা। এলাকার সাধারণ মানুষের সুদৃঢ় সমর্থন ও ভালোবাসায় তিনি দুই বার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে মেধা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রসারে তিনি গাবখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সাতবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথকভাবে দুই বার করে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
তরুণদের অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতে তিনি গাবখালী স্পোর্টিং ক্লাবের দুই বার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে তিনি গাবখালী মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।
তৃণমূলের সুসংগঠিত ভিত্তি ও সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসাকে সম্বল করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী মসিউদ্দিন মোড়ল। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, তাঁর মতো ত্যাগী, সৎ ও অভিজ্ঞ নেতা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নবাসী উপকৃত হবে।
এক সাক্ষাৎকারে মসিউদ্দিন মোড়ল জানান, দল যদি তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদান মূল্যায়ন করে তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেয় এবং জনগণের বিপুল ভোটে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, তবে বাহিরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পূর্ণ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষমুক্ত একটি জবাবদিহিমূলক আধুনিক সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবেন। কৃষিনির্ভর এই এলাকার কৃষক সমাজের কল্যাণে শেষ না হওয়া কাজগুলো সমাপ্ত করা, গ্রামের অবহেলিত রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কাঁচা সড়কের উন্নয়ন ঘটিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা তাঁর প্রধান লক্ষ্য।