1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারালো অস্ট্রেলিয়া

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

হারারের স্পোর্টস ক্লাবে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জশ ইংলিসের দুর্দান্ত ১০৩ রানের ইনিংসে ভর করে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অস্ট্রেলিয়া। তবে জয়টি এসেছে বেশ নাটকীয়ভাবে। ৪৯.৫ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। শুরুটা অবশ্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না স্বাগতিকদের। ৩৪ রানে বেন কারানের উইকেট হারানোর পর ৪৮ রানে ফিরে যান ব্রায়ান বেনেটও। এরপর ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও ব্রেন্ডন টেলর। টেলর ৯ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হলেও কাইয়া ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। কাইয়া ৬৬ বলে ৭টি চারে ৫৫ রান করেন। তবে তাঁর ইনিংসটি পূর্ণতা পায়নি। ১৪৮ রানের সময় তিনি অবসরে মাঠ ছাড়েন। এরপর আরভিনের সঙ্গে জুটি গড়ে জিম্বাবুয়ের স্কোর এগিয়ে নেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আরভিন ৭৯ বলে ৫৯ রান করেন, তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার। ইনিংসের শেষ দিকে মূল দায়িত্বটা নেন রাজা। ৭২ বলে অপরাজিত ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। সাতটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটির স্ট্রাইক রেট ছিল ১১২.৫০। শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্সের ১১ রান এবং আর্নেস্ট মাসুকুর ৩ রানের পর জিম্বাবুয়ে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাথান এলিস। ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে তিনি নেন তিন উইকেট। স্পেন্সার জনসনও ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে দুটি এবং অ্যাডাম জাম্পা ১০ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ২০ রানের মধ্যেই ট্রাভিস হেড ও অধিনায়ক মিচেল মার্শকে হারায় তারা। হেড ৬ এবং মার্শ মাত্র ৮ রান করে ফেরেন। ২৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর কুপার কনোলি ও জশ ইংলিস মিলে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। কনোলি ৩৯ বলে ২১ রান করে গ্রায়েম ক্রেমারের বলে বোল্ড হন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত গড়ে দেন ইংলিস ও অ্যালেঙ্ ক্যারি। ইংলিস একপ্রান্ত আগলে রেখে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৪৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর ইনিংসকে আরও বড় করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০২ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ১০৩ রান করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০.৯৮। ইংলিসের সঙ্গে ক্যারির জুটিও অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেয়। ক্যারি ৩০ বলে ৩৪ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ৫০ রান। ১৬২ রানে ক্যারি আউট হওয়ার পর অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে আবারও চাপ তৈরি হয়। ম্যাট রেনশ ৪ রান করে ফেরেন। অলিভার পিক ১৯ এবং জাভিয়ের বার্টলেট ৩ রান করে আউট হলে ২০৬ রানের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া হারায় সাত উইকেট। ৪১.১ ওভারে ২২৭ রানে অষ্টম উইকেট হিসেবে ইংলিসের বিদায় পরিস্থিতি আরও কঠিন করে দেয়। তার বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল আরও ৪৫ রান, হাতে ছিল মাত্র দুই উইকেট। ইংলিসের ১০৩ রানের ইনিংস থামান সিকান্দার রাজা। এরপর নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা কিছুটা এগিয়ে নেন অস্ট্রেলিয়াকে। জাম্পা ৯ রান করে ২৪৫ রানে নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হলে জিম্বাবুয়ের সামনে জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তখন অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২৭ রান, হাতে ছিল শেষ উইকেট। শেষ পর্যন্ত এলিস ও স্পেন্সার জনসন সেই কাজটি সম্পন্ন করেন। এলিস অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে, ৪৪ বলের ইনিংসে মারেন দুটি চার ও একটি ছক্কা। জনসন ১৩ বলে অপরাজিত ৭ রান করেন। তাদের শেষ উইকেটের জুটিতেই অস্ট্রেলিয়া ৪৯.৫ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্র্যাড ইভান্স চারটি উইকেট নেন। ১০ ওভারে ৪৭ রান দেন তিনি। গ্রায়েম ক্রেমার ও সিকান্দার রাজা দুটি করে উইকেট নেন, আর ওয়েসলি মাধেভেরে পান একটি উইকেট। ফলে ম্যাচে ১ উইকেটের জয় দিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করল অস্ট্রেলিয়া। হারারের এই ম্যাচে দুই দলের ইনিংসেই ছিল লড়াই, তবে শেষ পর্যন্ত জশ ইংলিসের সেঞ্চুরি এবং শেষ উইকেটে নাথান এলিস-স্পেন্সার জনসনের অবিচ্ছিন্ন জুটি অস্ট্রেলিয়াকে এনে দেয় সিরিজের শেষ ম্যাচের রোমাঞ্চকর জয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd