মেহেদী হাসান লিপন, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নে প্রায় ৯৬ বছরের পুরানো পশ্চিম বারইখালী জামে মসজিদের জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে নামায আদায় করতে হয় মুসুল্লিদের। ঝুঁকিপূর্ণ এ মসজিদটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
সরেজমিনে জানা গেছে, উনিশ দশকের দিকে পশ্চিম বারইখালী জামে মসজিদটি তৎকালীন সময়ে
স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের বিবর্তনে মসজিসটি সেমিপাকায়
রুপান্তরিত হয়। সেই সেমিপাকা মসজিদটিতে স্থানীয় মুসুল্লিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে
আসছে। বর্তমানে মসজিদটির অবস্থা জরাজীর্ণ। যেকান সময় ভেঙে পড়তে পারে। মসজিদের দেয়ালে
ফাটল। পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। উপরের টিন জরাজীর্ণ। পলিথিন দিয়ে বৃষ্টি ঠেকানোর চেষ্টা । সামান্য
বৃষ্টি হলেই ভিজে যায়। তখন নামায আদায়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় নামাযীদের। অপরদিকে নামাযীদের
জন্য নেই পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ওযুর করার ব্যবস্থা। মসজিদের দরজা জানালাও নড়বড়ে।
মসজিদের নিয়মিত মুসুল্লী জাকির হোসেন, সোহেল হাওলাদার, নুরুজ্জামান ও মোশারফ হাওলাদার
বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি রক্ষার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটি টিকিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে
সংস্কার, ছাদ নির্মান, নিরাপদ দরজা-জানালা স্থাপন এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণের মতো
কাজ স্থানীয়ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।
মসজিদের ইমাম ও খতিব তৈয়বুর রহমান তোহা বলেন, মসজিদটি দীর্ঘ বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায়
রয়েছে। বৃষ্টি ও দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মুসুল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত
সেনিটেশন ব্যবস্থা। মসজিদ দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক ফকির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটির সংস্কার প্রয়োজন হলেও
পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে বড় ধরনের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে যতটুকু সম্ভব, মুসল্লিরা
নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে মসজিদের অবস্থা এতটাই
নাজুক যে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া নিরাপদে নামাজ আদায় করা কঠিন।
মসজিদটির ঐতিহ্য রক্ষা, বর্তমান জরাজীর্ণ থেকে উত্তরনে সরকারি , বেসরকারি, জনপ্রতিনিধি,
বিত্তবান কিংবা দাতা সংস্থার প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় মুসুল্লিরা।