বিদেশ : দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উপকূলে একটি ফেরি ডুবে অন্তত একজনের প্রাণহানি ও ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির সরকার গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। এমভি মাতুই নামের ফেরিটি শুক্রবার ৪০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে সান্তো দ্বীপ থেকে আম্বে দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ওই সময় সাগর ছিল খুবই উত্তাল। তবে ফেরিটি গন্তব্যে পৌঁছায়নি। সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জোথাম নাপাতের কার্যালয় গতকাল রোববার সকালে জানায়, একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফেরিতে থাকা ১৫ জনকে জীবিত অবস্থায় শনাক্ত করা হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে প্রথম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। সান্তোর একটি হোটেলে কাজ করা এক ডুবুরি লাইফ জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তিকে পানিতে ভাসতে দেখে তাকে তীরে তুলে আনেন। হোটেল মালিক অ্যাশলি বেভারিজ এএফপিকে জানান, তিনি বুঝতে পারেন, তার ওই কর্মী নিখোঁজ ফেরিটির একজন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করে এনেছেন। পরে রেস্তোরাঁয় থাকা একজন বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। বেভারিজ টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, ২৫ ঘণ্টা ধরে বাথটাবে ছিল। তার শরীর কুঁচকে গিয়েছিল ও সাদা হয়ে গিয়েছিল। সে ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিল।’ জেফসন নামে ওই উদ্ধার ব্যক্তি জানান, গত শুক্রবার সকালে নৌযানটি ডুবে যায়। বেভারিজ বলেন, ‘এই ব্যক্তি আমাদের সৈকতে ভেসে ওঠার আগে কোনো উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি। ভাগ্য ভালো যে সে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভেসে উঠে। সে সারাদিন ও সারারাত পানিতে ছিল।’ গতকাল রোববার বিকেলে বেভারিজ বলেন, সর্বশেষ হিসাবে ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই বা তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার বিকেল থেকে স্থানীয় এক রাজনীতিকের মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজ, একটি উড়োজাহাজ থাকা স্থানীয় এক চিকিৎসক এবং একটি বেসরকারি চিকিৎসা সহায়তা নৌযান উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সান্তো দ্বীপের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। গতকাল রোববার বিকেলে নৌযান অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিজ দায়িত্বে নেয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। গতকাল রোববারের বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, একজন মারা গেছে ও ১৫ জনকে ‘জীবিত অবস্থায় শনাক্ত’ করার পাশাপাশি ‘সমুদ্রে ৩০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা ও প্রার্থনা রয়েছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ ঘটনায় প্রবল বাতাস ও সমুদ্রপথে জারি করা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার বিষয়টি দায়ী বলে মনে হচ্ছে। নৌযানটিতে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল নেওয়াসহ অবহেলাও হতে পারে।’