1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন

বীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্তি দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত ইপিাআর সদস্যর সংবাদ সম্মেলন 

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাগেরহাট সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা গ্রামের মীর মোশারেফ আলী।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)  সাকালে বাগেরহাট প্রেসক্লব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
 তিনি ১৯৭১ সালে তৎকালীন ইপিআরে কর্মরত থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং যুদ্ধকালীন বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি গেজেটে অন্তর্ভুক্তির আবেদন ও জীবনবৃত্তান্তে মীর মোশারেফ আলী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ঢাকার পিলখানায় ইপিআরে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ কালরাতে (২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে) পাকিস্তানি বাহিনী পিলখানায় হামলা চালালে অনেক সৈনিক শহীদ হন। পরে আটক অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজে রাখা হয় এবং নির্যাতন করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মীর মোশারেফ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন পর তাঁকে লৌহজং থানায় পোস্টিং দেওয়া হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি পালিয়ে যান। নদী, পানি ও জঙ্গল পেরিয়ে গভীর রাতে একটি গ্রামে পৌঁছান। এ সময় এক ব্যক্তির সহায়তায় তিনি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. ইকবাল হোসেনের কাছে যান। তাঁর সঙ্গে থাকা একটি এলএমজি, একটি ৩০৩ রাইফেল ও কিছু গুলি ওই কমান্ডারের কাছে জমা দেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
এরপর বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি গোয়ালিবান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের দায়িত্বও পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মীর মোশারেফ। তাঁর অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন বলেও তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারত থেকে তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন হেলিকপ্টারে লৌহজং এলে প্রায় ৩০০ মুক্তিযোদ্ধার সাব-কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে তাঁকে গার্ড অব অনার দেন মীর মোশারেফ আলী। পরে কমান্ডার ইকবাল হোসেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।
স্বাধীনতার পর বিডিআর থেকে আহ্বান করা হলে আবার চাকরিতে যোগ দেন বলেও আবেদনে জানিয়েছেন মীর মোশারেফ। পরে রাঙামাটিতে শান্তিবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের সময় তাঁকে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর পাহাড়ি এলাকায় দায়িত্ব পালনের কারণে মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বিষয়ে খোঁজ নিতে পারেননি বলে দাবি তাঁর।
মীর মোশারেফ আলীর দাবি, গত প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি চারবার যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ‘ক’ গ্রুপে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ঢাকায় ফাইল পাঠানোর পর অজ্ঞাত কারণে তাঁর গেজেট প্রকাশ হয়নি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল—জামুকায় তাঁর কাগজপত্র পড়ে রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আবেদনে তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর কাগজপত্র ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর কাছে চাওয়ার মতো আর কোনো প্রমাণ নেই। অনেকের সার্টিফিকেট থাকলেও তাঁর মতো ‘নিরেট প্রমাণাদি’ অন্য কারও নেই—এমন মন্তব্যও ওই কর্মকর্তা করেছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে মীর মোশারেফ আলী তাঁর গেজেট প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd