রোমেন রায়হান
বিশ্বকাপের এই সিজনে মামার বাসায় আসা
কত যে ভুল! পাচ্ছি না তা প্রকাশ করার ভাষা!
জানতটা কে বিশ্বকাপের হাওয়া-বাতাস পেলে
পাগল হবে বাসায় থাকা বুড়ো, জোয়ান ছেলে!
মামার বাসায় পাগল ভরা বলছি কি আর সাধে?
মাল্টিকালার পতাকারা উড়ছে বাসার ছাদে!
বাসায় নতুন রঙ করাতে দেয়নি কেউই বাধা?
একটা দেয়াল হলুদ-সবুজ, একটাতে নীল-সাদা!
টিভিরুমের অন্য দেয়াল মেরুন রঙে রাঙা
বিশ্বকাপের উত্তেজনায় মানুষ এমন চাঙা?
মামাতো ভাই, মামাতো বোন, এবং আমার মামা
খেলা দেখার সময় পরে সাপোর্ট-কালার জামা!
আমায় বলে, কোন দলে তুই? কোন কালারের নিবি?
আমি কি আর এসব বুঝি! দেখতে থাকি টিভি!
এ বলে, দে, রিমোটটা দে, টিভির সাউন্ড কমা
ও বলে, না, সাউন্ড বাড়া, রিমোট থাকুক জমা!
চিপস-চানাচুর, চা-কফিতে টেবিল থাকে ঠাসা
নিজের জেতা, পরের হারা এটাই সবার আশা!
গোল দিলে লাফ বিশালাকার, গোল খেলে মুখ কালো
সারাক্ষণই তর্ক চলে কার থেকে কে ভালো!
মেসি নাকি রোনালদো? না, সবার সেরা ভিনি?
খেলার সময় কুশন ছোঁড়া চলছে প্রতিদিনই!
ভাইবোনেরা ঝগড়া করে তাল দিয়ে যান মামা
মামী এসে ধমকিয়ে যান, পাগলামিটা থামা!
সপ্তাহখানেক থাকার পরে যা বুঝেছি আমি
মামার বাসায় সুস্থ থাকার মধ্যে আছে মামী।
হচ্ছে কোথায় বলের খেলা, মারছে কারা লাথি!
মামীর কথা, এসব নিয়ে কিসের মাতামাতি?
আজকে বাসায় উত্তেজনা আগের থেকে বেশি
কেউ দিচ্ছে মুখঝামটা, দেখাচ্ছে কেউ পেশি!
একটু পরেই খেলা শুরু, টিভির রিমোটখানা
কোথায় গেল? কে লুকালো? কারোরই নেই জানা!
যে লুকালো পারলে তাকে সবাই মিলে মারে!
রিমোট দেখি সব্বাইকে এক করতে পারে!
আমার দিকে তাকায় কেন? কী করেছি আমি?
কোথায় গেলেন? জলদি আসেন, আমায় বাঁচান, মামী!