শেখ সৈয়দ আলী, ফকিরহাট: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০২৬ এ বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৪ নং ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রবীণ ও জনপ্রিয় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ মুশফিকুজ্জামান রিপন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের জেল-জুলুম, রাজপথের সংগ্রাম এবং সাবেক দুই বারের সফল ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এবার নিজ ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৩ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া শেখ মুশফিকুজ্জামান রিপনের শৈশব ও বেড়ে ওঠা ফকিরহাটেই। তার বাবা মরহুম এম এ ছালাম ছিলেন ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সোনালী ব্যাংক ফকিরহাট শাখার প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজার। রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯২ সালে পারভেজ-টিপু পরিষদের প্যানেল থেকে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তৃণমূলের সরাসরি ভোটে পুনরায় উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির অনুমোদিত ফকিরহাট উপজেলা যুবদলের আহবায়ক নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় তিনি দলীয় আনুগত্য রক্ষা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অন্তত ৬টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয় এবং একাধিকবার কারাভোগ করতে হয়। দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় তিনি পরিবার-পরিজন ছেড়ে ফেরারি জীবন কাটিয়েছেন। এ সময় তার মালিকানাধীন ৫ একর আয়তনের মৎস্য ঘের লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হন।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পাশাপাশি তিনি একজন জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। ২০০২ সালে তিনি ১ নং আট্টাকী ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে দ্বিতীয় বার বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য (মেম্বার) নির্বাচিত হন। ইউপি সদস্য থাকাকালে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবেও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার মেয়াদে এলাকায় কাঁচা রাস্তা সোলিংকরণ, কালভার্ট নির্মাণ, জটার খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা ও রেশন কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’-এর সময় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা তৈরি, প্রশাসনিক সহায়তার ব্যবস্থা করা এবং নিজ হাতে সড়কে উপড়ে পড়া গাছ কেটে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে ‘সংকটমোচক’ হিসেবে প্রশংসা কুড়ান।
এ ছাড়া একজন ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক হিসেবে আট্টাকী স্পোর্টিং ক্লাব এবং কাজীদিয়া মনছুর স্মৃতি সংসদের হয়ে খুলনা দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লীগসহ বাগেরহাটের বিভিন্ন মাঠে তার নৈপুণ্য এক সময় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে শেখ মুশফিকুজ্জামান রিপন তার নির্বাচনী ভাবনা প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, তিনি ফকিরহাট সদর ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করতে চান। তার মূল লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা, উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে মুক্ত করে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনা।