1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন

দেশজুড়ে বাড়ছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

দেশজুড়ে বাড়ছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ ২১ জেলায় ১৩৮টি গুলির ঘটনায় ৬৭ জনের প্রাণ গেছে। আর অন্তত ১৪৫ জন আহত হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই গত ৯ মাসে ঘটেছে ১৭টি গুলির ঘটনা। ওসব ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। একই সময় খুলনায় সর্বাধিক ৩৯টি গুলির ঘটনা ঘটে। তাতে ১৫ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। আর চট্টগ্রামে ৩১টি গুলির ঘটনা ঘটে এবং নিহত হয় ১৩ জন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মানবাধিকার সংগঠন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে বিগত ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বাড়তে থাকে অপরাধী ও দুর্বৃত্তদের হাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মজুদ। ওই সময় সন্ত্রাসীদের হাতে থানা ও ফাঁড়ি থেকে পুলিশের লুট হওয়া ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের বেশির ভাগ চলে যায়। লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে নানা অভিযানেও একনো ১৩ শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্তে চোরাই পথেও দেশে ঢুকছে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র। আর ওসব অস্ত্রের কারণে দেশজুড়ে বাড়ছে খুনাখুনি। গত ২০২৫ সালে দেশে ২৫০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয় এবং অন্তত ৮০ জন মারা যায়।

সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে শহর থেকে গ্রামে সর্বত্রই বাড়ছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। আর ওসব অস্ত্রধারীর বেশির ভাগ কিশোর-তরুণ। তারা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে অর্থের বিনিময়ে ভাড়া খাটছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে পাড়া-মহল্লায় অস্ত্রধারী চক্র গড়ে উঠেছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাই নিয়ন্ত্রণ করছে দেশজুড়ে মাদকের স্পট। তাছাড়া তারা প্রায়ই পথচারীদের অস্ত্র ঠেকিয়ে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই ভয়ে সাহস পাচ্ছে না থানায় অভিযোগ করতেও। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরো জোরদারে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি। বরং দিন দিন তা আরো বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বিশেষ ইউনিট গঠন করার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, দেশব্যাপী গত ১ মে থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজার ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় ৪৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪ হাজার ৭২২ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ১৬৫টি ম্যাগাজিন, ৬৫টি ককটেল, সোয়া ২ কেজি গানপাউডার, ৮৯৩টি  দেশীয় অস্ত্র, ৭১টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ২১টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকোলেটবাজি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৫৩টি পিস্তল, ৪৮টি শ্যুটারগান, ৪৫টি এলজি, ২৬টি রিভলবার, ১০৮টি বন্দুক, ২৬টি পাইপগান, ৭টি শটগান, ৭টি রাইফেল, ৩টি এসএমজি, ১২টি এয়ারগান ও একটি পেনগান।

এদিকে এ প্রসঙ্গে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন জানান, সামপ্রতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে তা বলার সুযোগ কম। বরং অপরাধীরা  প্রকাশ্যে একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd