বিদেশ : জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার ছয় দিন পর গত সোমবার আরও আটটি মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত রোববার পর্যন্ত ৮৪টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল জাতীয় পুলিশ। গত সোমবার নতুন করে আরও আটটি মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা ৯২-এ পৌঁছেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে চারটি নৌকা ও ৪০ জনের বেশি ডুবুরিসহ বিপুলসংখ্যক জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। হ্রদের পানিতে থাকা সব মরদেহ শেষ পর্যন্ত ভেসে উঠবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার প্রবল বাতাসের মধ্যে জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী কারিবা হ্রদে ফেরিটি উল্টে যায়। ঘটনাটিকে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটির ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। তবে দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন যাত্রী ও ক্রু এতে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ নিয়ে ফেরিটি চলছিল এবং এতে সর্বোচ্চ ১৫৩ যাত্রী ও ক্রু থাকতে পারেন। ফেরিটি উত্তর জিম্বাবুয়ের কারিবা শহর থেকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ ও মৎস্যজীবী সমপ্রদায়ের দিকে যাচ্ছিল। অঞ্চলটিতে সড়ক যোগাযোগ ও গণপরিবহন ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় নৌপথে যাতায়াত বেশ প্রচলিত। তবে দুর্বল অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় একটি হাসপাতালের বাইরে শত শত মানুষ স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করার জন্য অপেক্ষা করছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮ শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ঘাটতি রয়েছে, যেগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা