1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

অপারেশন ক্লিন হার্ট নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান জোরদার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

দেশে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে নতুন করে কোনো ‘যৌথ বাহিনী’ গঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও হয়নি। তবে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিতভাবেই চলছে এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ অপরাধ দমনে তা আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো যৌথ বাহিনী গঠন কিংবা অতীতের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে অভিযান চালানোর আলোচনা সামনে আসে। তবে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম সবসময়ই চলছে এবং সামনে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনেই এই সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ডিসেম্বরে অস্থিরতা নিয়ে যা বললেন
ডিসেম্বর মাস ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপতৎপরতা ও অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাসে কোনো ‘অপশক্তি’ দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার নয়, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের উপাদান থাকলে ফৌজদারি মামলাও করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তেজগাঁওয়ে আনসারের নতুন সদর দপ্তর
অনুষ্ঠানে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের বিষয়েও বিস্তারিত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য ৩ দশমিক ৪২৮ একর, অর্থাৎ প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খিলগাঁওয়ের অপরিসর জায়গা থেকে বর্তমানে আনসার সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে স্থান সংকটের পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন স্থানে আধুনিক ও বড় পরিসরের অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে আনসার ও ভিডিপিকে দেশের সবচেয়ে বড় বাহিনী হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্যদের আবাসন সংকটের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। নতুন সদর দপ্তরে ডরমেটরি ও ব্যারাক নির্মাণের পাশাপাশি আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরেও আবাসন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আনসারের দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বাহিনীর আর্থিক ও অন্যান্য দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে পূরণে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করা সদস্যদের আবাসন সংকট এখনো রয়েছে। নতুন অবকাঠামোর মাধ্যমে এই সংকট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার, ভিডিপি এবং অঙ্গীভূত সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক দাবিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ঢাকার যানজট কমাতে অটোমেশন ও এআই
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সড়ক খনন ও নির্মাণকাজের কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্টদের ধাপে ধাপে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পুরো রাস্তা একসঙ্গে খনন না করে একটি অংশের কাজ শেষ করে দ্রুত সেটি পুনর্নির্মাণের পর পরবর্তী অংশে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, পিএসসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd