ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা); একসময় যে বিদ্যালয়টি ছিল একটি জনপদের শিক্ষার প্রধান ভরসা, ৫৪ বছর পর সেই বিদ্যালয়ের ভবনই এখন শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগের কারণ। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড ও লাল ইট। পুরোনো ছাদ ও কাঠামোও হারিয়েছে স্বাভাবিক শক্তি। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এমন জরাজীর্ণ অবকাঠামোর মধ্যেই প্রতিদিন পাঠ নিতে হচ্ছে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর কড়ুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই চিত্র দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিধি বাড়লেও বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি যেন পড়ে আছে আগের অবস্থাতেই।
বিদ্যালয়ের মূল ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে জরাজীর্ণতার চিহ্ন। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে রড ও ইট বেরিয়ে এসেছে। ছাদের পুরোনো কাঠামো নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। বর্ষার দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
সাবেরা খাতুন শিক্ষার্থী বলে, “অন্য স্কুলের সুন্দর ও নিরাপদ ভবন দেখে আমাদেরও ইচ্ছে করে এমন একটি শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে। বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। তখন পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।”
আরেক শিক্ষার্থীর সুমি আক্তার জানান, “পুরোনো ভবনে ক্লাস করার সময় ভয় লাগে। আমরা চাই আমাদের স্কুলটিও নিরাপদ ও সুন্দর হোক।”
শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত অভিভাবকরাও। তাদের মতে, সাময়িক সংস্কার বা জোড়াতালি দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন জরাজীর্ণ ভবনের পরিবর্তে নিরাপদ ও টেকসই অবকাঠামো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহম্মেদ বলেন, “প্রায় দুইশ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা মানসিক চাপের বিষয়। ভবনটি এতটাই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যে শুধু চুনকাম বা জোড়াতালি দিয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। তবে শিক্ষকের ঘাটতির চেয়েও বড় বিষয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা। সংশ্লিষ্ট মহল সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত নতুন ও নিরাপদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ৫৪ বছর ধরে একটি বিদ্যালয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেলেও কেন এর শিক্ষার্থীদের এখনো জরাজীর্ণ ভবনে পাঠ নিতে হবে? তাদের দাবি, কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত বিদ্যালয়টির অবকাঠামো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।