1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, সংঘাতের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি দেশে সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ, সংঘাতের রাজনীতি দেখতে চাই না। অনেক হয়েছে। এখন গণতন্ত্রের রাজনীতি, সহনশীলতার রাজনীতির দিকে গোটা দেশের মানুষের যাওয়া উচিত।’

তিনি রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে দেশে সম্প্রীতির রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, হানাহানি ও সংঘাত নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের দীর্ঘদিনের আশা ছিল জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার পূরণের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি আল্লাহতায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। তাঁর নির্দেশনায় দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ও স্থান নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে জমি পাওয়া গেছে, তা শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ দেন।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনটি জেলার মানুষের জন্য আনন্দের। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় মানুষ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় স্থানীয়দের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটিকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে দেখভাল করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও জানান, অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ইস্রাফীল শাহীন যে ভূমিকা রাখছেন, তারও প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, উপাচার্য অধ্যাপক মো. ইস্রাফীল শাহীন, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, ইউজিসির কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তাঁর প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার তিনি হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছান।

রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। পরে সার্কিট হাউসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সফরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়। একই সঙ্গে সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd