২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। ২০২৪ সালের আসরেও চ্যাম্পিয়ন দলটির নাম টিম ইন্ডিয়া। টানা দুই শিরোপা জেতার পর দলের অধিনায়ককেই দল থেকে বাদ দিয়ে দেয় ভারত। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জেতার পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব পান সূর্যকুমার যাদব। তার অধীনে উড়ন্ত ফর্মে ছিল ভারত। ঘরে, বাইরে একের পর এক সিরিজ জিতেছে। বিশ্বকাপেও ছিল ফর্মের তুঙ্গে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এক ম্যাচ হারলেও পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমারকে সফল না বলার উপায় নেই। বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, অধিনায়ক হিসেবে জিতিয়েছেন এশিয়া কাপও। এর চেয়ে বেশি আর কী সাফল্য এনে দিতে পারতেন তিনি? তবে ব্যাট হাতে সূর্যকুমারের ফর্মটা চিন্তার কারণ ছিল। বিশেষ করে বিশ্বকাপের কাছাকাছি সময়ে ব্যাট হাসেনি সূর্যকুমার। আইপিএলেও চেনা ছন্দে ছিলেন না। বিশ্বকাপ জেতালেও তাই ব্যাটার হিসেবে দল থেকে জায়গা হারান সূর্যকুমার যাদব। নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারকে। এতদিন দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে নিশ্চুপ ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছোটখাটো বার্তা দিয়ে দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন টুকটাক। তবে এবারই প্রথম দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। যাদব বলেছেন, ‘যখন দেখলাম দলে আমার নাম নেই, আমি হেসেছিলাম। দলের হয়ে খেলার সময় চাপের মুহূর্তে বা যখন পরিস্থিতি আমার পক্ষে যায়নি, তখনও আমি সব সময় হাসার চেষ্টা করেছি। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।’ সূর্যকুমার আরও বলেছেন, ‘২০২৬ সালে এসে আমি ভেবেছিলাম, সামনের দুই বছরও দলটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। সামনে অলিম্পিক, এরপর (২০২৮ সালে) আরেকটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল সামনে। কিন্তু আপনি যা ভাবছেন আর অন্যজন যা ভাবছেন, দুটো ভিন্ন বিষয়। নির্বাচকেরা যদি মনে করে থাকেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই ভালো সিদ্ধান্ত, তারা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ নতুন অধিনায়ক আইয়ারকে নিয়েও কোনো আপত্তি নেই সূর্যকুমারের, ‘শ্রেয়াসের সঙ্গে আমি অনেক দিন খেলেছি। সে ভালো ক্রিকেটার, ভালো মানুষ, ভালো অধিনায়কও। ওকে কেন অধিনায়ক করা হলো, এটা নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। কিন্তু আমি হতাশ ছিলাম। কারণ, দুই বছরে আপনি একটি সিরিজও হারেননি। বিশ্বকাপ জিতেছেন, এশিয়া কাপ জিতেছেন। সবকিছু যখন ভালোই চলছে, তখন পরিবর্তনের প্রয়োজন কেন? এই প্রশ্নটাই আমার মাথায় ঘুরছিল। আমি ভাবছিলাম, এটা কীভাবে হলো? কীভাবে সম্ভব? আমরা তো সবে বিশ্বকাপ জিতলাম। হ্যাঁ, আইপিএল আমার প্রত্যাশামতো হয়নি। আমরা বাড়িতে বসে ছিলাম। বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা আসতেন, সবাই বলতেন, সমস্যা নেই, জীবনেরই অংশ। কিন্তু তারা চলে গেলে আমরা আবার বাড়িতে একা থাকতাম।’ বাদ পড়ার বিষয়টি অবশ্য আগেই জেনেছিলেন সূর্যকুমার। তিনি বলেন, ‘ওরা (নির্বাচকরা) আমাকে ফোন করেছিল। বলেছিল, এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। কারণ, এটা তো আমার স্বভাব নয়। কেউ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নিশ্চয়ই দলের ভালোর কথা ভেবেই নিয়েছে।’ তবে এখনও যদি দলে ডাকা হয়, ফিরতে প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়ে রেখেছেন সূর্যকুমার, ‘আমি প্রস্তুত। যেকোনো সময় আমাকে ডাকতে পারেন। আমি সব সময় ক্রিকেট খেলছি, খেলা চালিয়ে যাব। যখনই আপনাদের মনে হবে সময়টা ঠিক, পরিস্থিতি ঠিক, আমি প্রস্তুত।’ আইয়ারের অধীনে যদিও খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না ভারত। আয়ারল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হারার পর ইংল্যান্ডের কাছে ৪-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে টিম ইন্ডিয়া। পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেছে ৩-০ ব্যবধানে।