ফকিরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাটে পাঁচ বছরের শিশু সাজ্জাত হোসেন হত্যা মামলায় মোসা. রিকু বেগম (৬০) নামে এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বাগেরহাট অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক ফাইজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রিংকু বেগম ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের মো. বাবর আলী শেখের স্ত্রী।
মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মূলঘর গ্রামের মাসুদ শেখের পাঁচ বছরের ছেলে সাজ্জাত হোসেন নিখোঁজ হয়। পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় শামীম নামের এক ব্যক্তির ঘেরের পাশে পরিত্যক্ত কচুরিপানার মধ্য থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ১২ ফেব্রুয়ারি সাজ্জাতের বাবা মাসুদ শেখ বাদী হয়ে রিকু বেগমকে একমাত্র আসামি করে ফকিরহাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, রিকু বেগম তার ছেলেকে গলা টিপে হত্যা করেছেন।
মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রিকু বেগমকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ড দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. আলতাফ হোসেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. ফয়সাল আরেফিন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আলতাফ হোসেন বলেন, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। তিনি পলাতক রয়েছেন।