1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

ইয়ামিন হত্যা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে, সাইফুলসহ ১৩ জনকে হাজিরে বিজ্ঞপ্তি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার সাভারে আসহাবুল ইয়ামিনকে সাঁজোয়া পুলিশযান থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৩ জনকে আত্মসমর্পণের জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ শুনানি শেষে এসব আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

কারাগারে পাঠানো ছয়জন হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান।

অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তাদের মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোট আসামি ১৯ জন। এর মধ্যে ছয়জন অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকার পরও বাকি ১৩ আসামির স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের সন্ধান পাননি। এ বিষয়ে নন এক্সিকিউশন রিপোর্ট বা এনইআর দাখিল করা হয়েছে বলে শুনানিতে জানানো হয়। পরে পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করে প্রসিকিউশন।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজামান এবং আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ।

এ ছাড়া রয়েছেন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সমর, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল গণির ছেলে মেহেদী হাসান তুষার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রাজীবের ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।

প্রসিকিউশনের আবেদনের পর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ছয়জনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি পলাতক ১৩ আসামির হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

আসহাবুল ইয়ামিন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচির সময় তিনি নিহত হন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার মধ্যে ইয়ামিনকে ধরে একটি পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নেওয়া হয়। দুপুর দেড়টার দিকে সাঁজোয়া যানের কাছে তাঁর বুকের বাম পাশে গুলি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাঁর বুকের পাশে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।

এরপর গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যানের ওপর ফেলে রাখা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ইয়ামিনকে বহনকারী সাঁজোয়া যানটি এপাশ থেকে ওপাশে ঘোরাতে থাকেন।

একপর্যায়ে প্রায় মৃত অবস্থায় ইয়ামিনকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয় বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। একই সময় সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্যকে বের করে ইয়ামিনের পায়ে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। তবে ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে তাঁর পায়ে গুলি না করে রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তখনও গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনের নিশ্বাস চলছিল। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যা মামলায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গত ২৬ জুলাই আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই দিন পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd