বিদেশ : ইরান যুদ্ধের সময় আরোপিত অবরোধের পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলেছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বেশির ভাগ জাহাজ মালিক এখনো এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন। বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। কেপলারের হিসাবে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি। গত ১০ দিনের গড় হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১১টি জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করেছে। ফলে বর্তমানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত মঙ্গলবার প্রণালিতে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল একটি খালি সুপারট্যাংকার, দুটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ। এর বিপরীতে দুটি মাঝারি আকারের জ্বালানি ট্যাংকার ও একটি বড় পোস্ট-প্যানাম্যাঙ্ জাহাজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যায়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এই জলপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে চীনের দুটি বড় শিপিং কোম্পানিও এখনো হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি এড়িয়ে চলছে। যুদ্ধের আগে এই দুটি কোম্পানি মিলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেক পরিবহন করত বলে ট্যাংকার ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ভর্টেঙ্া ও একটি শিপব্রোকার জানিয়েছে। হরমুজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যেও ভিন্নতা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে ইরানের দাবি, প্রণালিটি এখনো জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে। ফলে জলপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিয়ে জাহাজ মালিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সূত্র: শাফাক নিউজ