পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে হাসান সরদার ওরফে কিং (৪০) হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার পর এলাকাজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮-১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনার পরই সামনে এসেছে একাধিক অভিযোগ ও ভিন্নমত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন বিকেলে চাঁদখালী গরুর হাট সংলগ্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কালিদাসপুর গ্রামের কুদ্দুসকে ঘরের পাশে প্রস্রাব করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে ফোনে ডেকে আনা হয় একাধিক ব্যক্তিকে, যারা সংঘবদ্ধভাবে হাসানের ওপর হামলা চালায়।
নিহতের পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতের স্ত্রী তাসলিমা অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী শুধু ঘরের পাশে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর লোকজন ডেকে এনে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
এদিকে ঘটনার পেছনে ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তাদের মতে, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এত দ্রুত বিপুল সংখ্যক লোকের সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালানো স্বাভাবিক নয়।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—ঘটনাটি কি শুধুই তুচ্ছ বিরোধের ফল, নাকি এর আড়ালে রয়েছে মাদক আধিপত্য?