1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বিদেশ: জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুমামোটোর কাছে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর কাঠমান্ডু পোস্টের। গতকাল বুধবার টোকিওতে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এখনো অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন, সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। সম্ভাব্য সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে উদ্ধার করতে আমরা মাঠপর্যায়ে সব সম্পদ ও সক্ষমতা নিয়োজিত করেছি।” ভূমিকম্পের পরদিন তিনি এসব তথ্য জানান। এর আগে নিহতের সংখ্যা ৩ জন বলে জানানো হয়েছিল। ভূমিকম্পের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে কুমামোটো অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শপিংমল ‘এওন’-এ। প্রায় ২০০টি দোকান থাকা এই শপিংমলটির একটি অংশ ভূমিকম্পের পরপরই ঘটে যাওয়া এক রহস্যজনক বিস্ফোরণে উড়ে যায়। এতে দুই নারী নিহত হন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার ভোরে শপিংমলটির ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সরকারি প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ওই শপিংমলের ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন। ইমার্জেন্সি ফায়ার রেসকিউ টিম, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শপিংমলের যেসব অংশ থেকে সাহায্যের জন্য ফোন এসেছিল, সেগুলোকে মূল কেন্দ্র করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পের আঘাতে অঞ্চলের হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে প্রধান মহাসড়কগুলোতে বড় ফাটল ধরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে দুর্যোগের পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনো অস্পষ্ট। স্থানীয় এক কর্মকর্তা এনএইচকে-কে জানান, নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ধসে আরো সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে বহু আহত মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক দশক আগেও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের শিকার হওয়া এই পুরো জেলাজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোটো শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দক্ষিণে। প্রায় ৭ লাখ জনসংখ্যার এই অঞ্চলটির মধ্য কিউশুর সবচেয়ে বড় শহর। যেসব এলাকায় বেশি তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের পরবর্তী এক সপ্তাহ ধরে আরো শক্তিশালী কম্পন এবং ভূমিধসের ঝুঁকিতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ৩৬ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং বুধবার তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করায় অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছের উকি শহরের একটি হাসপাতাল জানিয়েছে, বিদ্যুৎ না থাকায় তারা সেবা স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। হাসপাতালের প্রশাসনিক প্রধান এনএইচকে-কে বলেন, “এটি এখন একটি ফিল্ড হাসপাতালের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।” শহরের অপর একটি হাসপাতাল জানায়, তারা নতুন রোগী নেওয়া স্থগিত করেছে। ভূমিকম্পের পর ৩ জন গুরুতর আহতসহ ৮৬ জন আহত রোগীকে ভর্তি করার পর সেখানে আর অতিরিক্ত জরুরি রোগী সামলানো সম্ভব হচ্ছিল না। ট্রেন পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় বুলেট ট্রেনের কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়েছেন। দুর্যোগের কারণে বিখ্যাত সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম নির্মাতা ‘টোকিও ইলেকট্রন’ এবং গাড়ি নির্মাতা ‘হোন্ডা’ গতকাল বুধবার পর্যন্ত তাদের কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিপমেকার টিএসএমসি সতর্কতার অংশ হিসেবে তাদের স্থানীয় প্ল্যান্ট থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছিল, তবে গত মঙ্গলবার রাত থেকে আবার উৎপাদন শুরু করেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় বিশ্বে ৬ দশমিক শূন্য বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ২০ শতাংশই জাপানে ঘটে থাকে। ১০ বছর আগে একই কুমামোটো অঞ্চলে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন। সেই সময় বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কুমামোটো দুর্গের দেয়ালসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd