1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে। সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

দুদক আইন, ২০০৪ অনুযায়ী নতুন এই কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস কমিশনশূন্য থাকার পর চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা পূরণ হলো।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমপর্যায়ের হবে। আর ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা হবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের।

এর আগে গত ৩ মার্চ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্‌সান ফরিদ পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য ছিল। নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ মাস পর দুদক পূর্ণাঙ্গ কমিশন পেল।

দুদক আইন, ২০০৪ অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন।

বিচারপতি আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হন। পরে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন।

নতুন কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান সরকারের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

নতুন কমিশন নিয়োগের আগে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে আগ্রহী প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপর বাছাই কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। পরে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার হিসেবে এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করা হয়।

দীর্ঘ সময় কমিশন না থাকায় দুদকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে ছিল। নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে এসব কার্যক্রমে গতি ফেরার সুযোগ তৈরি হলো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd