1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কটে ট্যানারিগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কটে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত না হয়ে ট্যানারিগুলোতে পড়ে রয়েছে। কোরবানির ঈদের পর এরই মধ্যে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ঢাকার বাইরে থেকে ট্রাকভর্তি লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া আসছে। কিন্তু গ্যাসের তীব্র সংকট ও লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াকরণ। এর আগে এমন পরিস্থিতি কখনো হয়নি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে একদিকে বাড়ছে ট্যানারিগুলোর আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি। পাশাপাশি অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে নির্ধারিত সময়ে বিদেশী ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ নিয়েও। যদিও রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরী স্থানান্তরের সময় নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের। কিন্তু এবারের কোরবানির ঈদের পর থেকেই শিল্পনগরীতে তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। ট্যানারি শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরী বর্তমানে অস্বাভাবিকভাবে কম গ্যাসের চাপ। পাশাপাশি বিদ্যুৎও থাকে না দিনের বড় একটি সময়। এ অবস্থায় ট্যানারিগুলোর উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে। এমনকি কোনো কোনো কারখানায় পুরোপুরি বন্ধ থাকছে দিনের বেলার কাজ। বরং গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে রাতের বেলা কাজ করতে হচ্ছে। অথচ এখন শিল্প এলাকার সবগুলো ট্যানারিতে চামড়া ঢ়ুকছে। ওই চামড়াকে প্রথমে ওয়েটব্লু চামড়ায় রূপান্তরিত করা হয়। যাতে পচন থেকে রক্ষা পায়। তখন বিদ্যুতের প্রচুর দরকার পড়ে। কারণ যখন কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হয় তখন অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয়। আর ওসব রাসায়নিক ড্রামে দেয়ার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে চামড়া আটকে যায়। তাতে একেবারে নষ্ট হয়ে যায় চামড়ার মান। পরিস্থিতি এমন হচ্ছে যে কোনো কোনো দিন ৭০ শতাংশ চামড়ার মানই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গড়ে যা প্রায় ৫০ শতাংশ।  আর শুরুতেই যদি চামড়ার মান নষ্ট হয়ে গেলে ভালো রাসায়নিকই ব্যবহার করেও লাভ নেই। কারণ রফতানিতে ওই চামড়া বাদ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, ট্যানারির অধিকাংশ কাজই গ্যাসনির্ভর। কাঁচা চামড়াকে প্রথমে ওয়েট ব্লুয়ের পর আসে ক্রাস্ট প্রসেসিং ধাপ। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্রাস্ট চামড়া রফতানি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু গ্যাস না থাকলে পাওয়া যায় না প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা। আর পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে নষ্ট হয়ে যায় চামড়ার গুণগত মান। এখন বর্ষাকালের ভেজা আবহাওয়ায় গ্যাস না থাকায় টানেল মেশিনে চামড়া শুকানো যাচ্ছে না। আর চামড়া ঠিকভাবে শুকানো না গেলে পরে প্লেট মেশিনে দিলে তার ওপর দাগযুক্ত বা অসমান আবরণ তৈরি হয়। ওই চামড়া আন্তর্জাতিক ক্রেতারা গ্রহণ করে না। শেষ পর্যন্ত সেগুলো পড়ে থাকে ট্যানারিতেই। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়ে সমপ্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, চামড়া শিল্পের ট্যানারিগুলোর কোরবানির সময়ই মূল ব্যবসা হয়। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট অব্যাহত থাকলে ট্যানারিগুলোর পক্ষে নতুন করে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ ট্যানারিগুলো ইতিমধ্যে যে চামড়া কিনেছে তা কীভাবে বাঁচাবে নিয়ে চিন্তায় রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশে লবণ দেয়ার আগে চামড়া পচেছে। এখন প্রক্রিয়াজাত করতে না পারার কারণে লবণ দেয়ার পরও পচবে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জানান, কোরবানির আগেই সরকারকে ট্যানারিগুলোর পক্ষ থেকে কমপক্ষে তিন মাস গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার কথা বলা হয়েছিলো। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ আছে গ্যাস। ফলে ট্যানারিগুলো যে চামড়া সংগ্রহ করেছিল তা পড়ে আছে। শ্রমিকরা বেকার হয়ে বসে আছে।

অন্যদিকে সাভার শিল্পনগরীর দায়িত্বে থাকা বিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান বিদ্যুৎ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, সাভারের অন্যান্য এলাকার তুলনায় বিসিক শিল্প এলাকায় লোডশেডিং কম। আর গ্যাসের বিষয়টি তিতাস দেখবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd