শেখ আব্দুল গফুর, কপিলমুনি (খুলনা) অফিস: কপিলমুনিতে বালি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কারসাজি এবং প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভবন বা যেকোনো
অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম প্রধান উপাদান বালি হওয়ায়, এর ক্রয়ে অসচেতনতার সুযোগ
নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কপিলমুনিতে হাতে
গোনা কয়েকজন বালি ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। এখানে বালি ব্যবসা
নিয়ন্ত্রণ করে একই পরিবারের তিন সহোদর। কামাল, জামাল, আজমল, ও তাদেরই এক কর্মচারী
মিজানুর রহমান। ক্রেতারা এদের প্রতারণা ধরতে পারলেও অন্য কোন ব্যবসায়ী না থাকায় বাধ্য
হয়েই তাদের কাছ থেকে বালি ক্রয় করতে হয়। এদের বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ আছে, বালির দাম
করে বালি না নিয়ে ফিরে আসলে সেই ক্রেতার নামে ১/২ ট্রলি বালির দাম বাকির খাতায় উঠে
যায়। হালখাতার কার্ড ক্রেতার কাছে পৌঁছে গেলে সেই ক্রেতার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়, সে
তো নিজেই বুঝতে পারে না কবে কোন দিন তার কাছ থেকে বালি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন। এক নম্বর মিষ্টি বালির অর্ডার করলে
দুই নম্বর বালি পাঠিয়ে দেয়। আবার কোন ক্রেতার সাথে তাদের হিসাবে মেলেনা। তাদের বাকির
খাতায় সব সময় ৩/৪ ট্রলি বালির দাম বেশি লেখা থাকে। তারপর আছে বালিতে কারচুপি। ৫০
ফুটের ট্রলির ব্যাস ৪৫ ফুট করে সেখানে উচ্চতা বাড়িয়ে ৫ ফুট বালি কম দিচ্ছে। এর ফলে
কাগজে-কলমে যে পরিমাণ বালি কেনেন, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম পান। ভেজা বালি বিক্রি,
বালিতে অতিরিক্ত পানি মিশিয়ে আয়তন বাড়িয়ে দেওয়া একটি সাধারণ কৌশল। পানি শুকিয়ে
যাওয়ার পর বালির আসল পরিমাণ অনেক কমে যায়, যা ক্রেতার জন্য সরাসরি লোকসান। নিম্নমানের
বালি মিশ্রণ: ভালো মানের মোটা বালির সাথে সস্তা ও নিম্নমানের বালি বা নদী থেকে তোলা
পলিমাটি যুক্ত বালি মিশিয়ে দেওয়া হয়। এতে ভবনের স্থায়িত্ব মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। বহু
বছর ধরে এরা প্রতারণা ও মানুষ ঠকানো ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছেন। প্রশাসনের কোন
তদারকি না থাকায় এরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর
দাবি জানিয়েছেন ক্রেতা সহ সাধারণ মানুষ।