নিজস্ব প্রতিবেদক, কুতুবদিয়া: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল, সাইড়পাড়া, পূর্ব তাবালেরচর এবং বড়ঘোপ রোমাইপাড়া সীমান্ত এলাকায় পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা বেড়িবাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।কুতুবদিয়ার অবস্থা ভালো নয়।জোয়ারের উত্তাল ঢেউ প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়ে বসতঘর, উঠান ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন করে দিচ্ছে। বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বড়ঘোপ রুমাই পাড়া ও আলীআকবর ডেইল সাইট পাড়া এলাকায় ভাঙনের মুখে কয়েকটি বসতঘরের বড় অংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে। কোনো রকমে ত্রিপল টানিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।একই রকমভাবে পূর্ব তাবালেরচর শফিকুল ইসলামের বাড়িও চলে গেছে সমূদ্র গর্ভে।অনেকের বাড়ির সামনে পর্যন্ত নদির ভাঙন চলে এসেছে, যেকোনো মুহূর্তে অবশিষ্ট অংশও সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সংস্কার বা টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।এমনকি ইমার্জেন্সেী ওয়ার্কের জন্য ২ কোটিরও বেশী টাকা বরাদ্দ হলেও এখনো এ সব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোন কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা ও বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ এত পরিবারকে সর্বস্বান্ত হতে হতো না।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা বলেন, “প্রতিদিন চোখের সামনে আমাদের ভিটেমাটি সাগরে চলে যাচ্ছে। আমরা কোথায় যাব, কার কাছে যাব? শুধু আশ্বাসে আর কতদিন?”
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং উপকূল রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় আলী আকবর ডেইল, সাইড়পাড়া, পূর্ব তাবালেরচর ও বড়ঘোপের রুামাই পাড়ার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা অচিরেই সাগরের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই ভাঙন শুধু কয়েকটি বাড়ির ক্ষতি নয়, এটি উপকূল রক্ষায় দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার নির্মম প্রতিচ্ছবি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।