ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা): কয়েক দিনের ভারি বৃস্টির মধ্যে খুলনার পাইকগাছার আমুরকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন ভেঙ্গে পড়েছে। এ ঘটনায় কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে এতে দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানালেন নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী উষা মন্ডল।
জানা যায়, ২০১১ সালে তৎকালীন সরকার ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটায় এ কমিউনিটি ক্লিনিকটি নির্মাণ করেন। একটি চিংড়ী ঘেরে পাশে ৫ শতক জমিতে গর্তের মধ্যে রড সিমেন্টের খুটি বসিয়ে তার উপর ক্লিনিকের ভবন নির্মাণ করেন ঠিকাদার জামান এন্টারপ্রাইজ। কয়েক বছর যেতে না যেতেই সিমেন্ট খসে পড়ে রড বের হয়ে পড়ে। ক্লিনিকে যাতায়াতের কোন পথ নেই। ছিলোনা কোন সমতল জমি। উপরে উঠা-নামার সিড়ি পথও ছিলো ঝুলন্ত এবং ঝুকিপূর্ণ। ৮- ১০ বছর যাবৎ ভবণটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর পরও সেখানে চলে স্বাস্থ্য সেবার কাজ।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় যা অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পাশ্ববর্তী রংধনু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আমুরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী উষা রাণীকে অন্য স্থানে কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ২০২৩ সালে ভবণটি ছেড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণী কক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন।
কয়েক দিনের ভারি বৃস্টির মধ্যে সোমবার সকালে ভবণটি ধ্বসে পড়ে। কমিউনিটি ক্লিনিকের যাবতীয় জিনিসপত্র, ইন্টারনেটের রাউডার, বৈদ্যুতিক মিটার,পানির মটর ও পানির ট্যাংকিসহ সবকিছুই বিনষ্ট হয়ে গেছে। সব কিছু মিলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য কর্মী জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানারা আহম্মেদ বিনতে বলেন, আমিতো মাত্র কয়েক মাস হলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছি। তবে আরও কয়েকটা কমিউনিটি ক্লিনিক এমনিভাবে নাজুক অবস্থায় আছে। সেগুলোও পরিত্যক্ত ঘোষনা করে নতুন করে সংস্কার করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।