নজরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, কুতুবদিয়া: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের অমজাখালী এলাকার নুরুল আবছারের মালিকানাধীন একটি ফিশিংবোট বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেছে। এ ঘটনায় বোটে থাকা ১২ জন জেলের মধ্যে ৭ জনকে জীবিত এবং ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো ১ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন । নিহতরা হলেন, বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ অমজাখালী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. করিম (২০), শামসুল আলমের ছেলে মো. নাফিজ (১৪), বড়ঘোপ মুরালিয়া গ্রামের আবদুল মাবুদের ছেলে আযাদ হোছাইন প্রকাশ আইয়ুব মনির (১৭), আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের হায়দার বাপের পাড়া মৃত মনজুর আলমের পুত্র এলাকার কামাল হোসেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন, পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার উদ্দ্যেশে ১২ মাঝিমাল্লা নিয়ে বের হন ফিশিং বোটের মালিক আবছার মাঝি। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল সাগরের মধ্যে ফিশিংবোটটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে উল্টে যায়। এ সময় বোটে থাকা জেলেরা সাগরে ছিটকে পড়েন। পরে আশপাশে মাছ ধরায় নিয়োজিত অন্যান্য নৌকার জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে ফিশিং বোটের ভেতর থেকে চার জেলের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা মৎস্যজীবী ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, “বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে ফিশিংবোটটি উল্টে গেলে জেলেরা সাগরে পড়ে স্রোতে ভেসে যান।
উপজেলা মৎস্যজীবী দল ও ফিশিংবোট মালিক সমিতির নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, “সোমবার রাতে সাগরে নোঙর করে সবাই বিশ্রাম নেওয়ার সময় হঠাৎ প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও স্রোতের তোড়ে বোটটি উল্টে যায়।
এ ঘটনায় কুতুবদিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুতুবদিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফারুক।
এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনো তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পৌঁছেনি।