1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা, সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

সিলেটের বহুল আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আদালত সূত্র জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রায় ঘোষণার আগে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশি নিরাপত্তায় সব আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১২টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাসে এসে রায় পড়া শুরু করেন এবং বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তার স্বামী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের একজন অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। তদন্তে আরও দুজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‍্যাবের পৃথক অভিযানে সবাই গ্রেপ্তার হন। পরে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায়ের পর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বলেন, “রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে যাদের খালাস দেওয়া হয়েছে, তাদের বিষয়ে রায়ের কপি পর্যালোচনা করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। ভুক্তভোগীও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd