1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরে, অর্থাৎ ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। এ ছাড়া টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে।

আজ সোমবার জুন মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, গত জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। গ্রাম-শহরনির্বিশেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

গ্রাম ও শহর-উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে তা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতির হার এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। অর্থাৎ বার্ষিক গড় হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে মানুষের আয়ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। জুন মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা একই সময়ের মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবারকে খাদ্য, চিকিৎসা, পোশাক, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব এখনো বাজারে রয়ে গেছে। এর ফলে কৃষিপণ্য, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেলসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ লক্ষ্যে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে বিভিন্ন করছাড়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু কর কমানো বা বাজেটে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এর জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd