1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

লড়াইয়ে নামার আগে ‘আমি ব্রাজিলকে ভালোবাসি’ বললেন হালান্ড

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। শেষ ষোলোর এই মহারণের আগে প্রতিপক্ষ ও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের প্রশংসায় মেতেছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। সেলেসাওদের ফুটবল ঐতিহ্য ও ফুটবলারদের মানের প্রশংসা করার পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার এই দেশটির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কাটে নরওয়ে। তবে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেদের জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা কমই দেখছেন হালান্ড। যদিও ইতিহাস ও পরিসংখ্যান কিন্তু কথা বলছে নরওয়ের পক্ষেই। ব্রাজিলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে একবারও হারেনি তারা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল নরওয়ে।

এছাড়া ১৯৮৮ ও ১৯৯৭ সালের দুটি প্রীতি ম্যাচেও জয় পেয়েছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। ২০০৬ সালে দুই দলের সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। পরিসংখ্যানের এই একচেটিয়া আধিপত্য থাকার পরও ব্রাজিলকে সমীহ করছেন হালান্ড। ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো তার এক ফেসবুক পোস্টে হালান্ডের এই বক্তব্যটি তুলে ধরেছেন। ব্রাজিলকে নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘ব্রাজিলে সবসময়ই অসাধারণ সব ফুটবলার ছিল। তাই তাদের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে।’দেশটির ফুটবল সংস্কৃতির প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি দারুণ সুন্দর এবং অসাধারণ একটি দেশ। তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি বিশাল কিছু হতে যাচ্ছে। আপনি যখন ব্রাজিল, তখন আপনার দলে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রাই থাকা উচিত।’ সবশেষে ব্রাজিলের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা সরাসরি জানিয়ে হালান্ড বলেন, ‘আমি ব্রাজিলকে ভালোবাসি!’ বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবলের নান্দনিকতা যেমন থাকবে, তেমনি গ্যালারিতে নরওয়ে তৈরি করতে যাচ্ছে তাদের শক্তির গর্জন। আর সেই গর্জনের নাম ‘ভাইকিং রো’।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত চত্বর নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার। সেখানে হঠাৎ করেই দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য; কয়েক শ মানুষ সারি বেঁধে মাটিতে বসে পড়েছেন। তারপর শুরু হলো সমবেতভাবে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি! কেউ সামনে ঝুঁকছেন, কেউ পেছনে হেলছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, কোনো অদৃশ্য নৌকা বেয়ে চলেছেন তাঁরা। এটি কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি বা ফ্ল্যাশমব নয়; এটি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত সমর্থক-উদযাপন ‘ভাইকিং রো’।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। আর দলের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে উদযাপনে রূপ দিতে নরওয়েজিয়ান সমর্থকেরা বেছে নিয়েছেন এই অভিনব পন্থা। মাঠের গ্যালারি থেকে শুরু করে নিউইয়র্কের সাবওয়ে, এসকেলেটর, শহরের ব্যস্ত রাস্তা সবখানেই এখন এই উদযাপনের ঢেউ। এমনকি এর ছোঁয়া পৌঁছে গেছে খোদ নরওয়ের জাতীয় সংসদেও! এক পর্যায়ে সংসদের কার্যক্রমে বিরতি দিয়ে কয়েকজন আইনপ্রণেতা একসঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ করে দলের প্রতি সমর্থন জানান।

অনেকেই একে ২০১৬ ইউরো কাপে আইসল্যান্ডের কাঁপানো বিখ্যাত ‘ভাইকিং ক্ল্যাপ’-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। তবে দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আইসল্যান্ডের সমর্থকেরা ধীরগতির তালি ও গর্জনের সমন্বয়ে ‘ভাইকিং ক্ল্যাপ’ করেছিলেন। অন্যদিকে, ‘ভাইকিং রো’ হলো পুরোপুরি বৈঠা চালানোর ভঙ্গিতে করা একটি সমবেত শারীরিক উদযাপন।

এই ‘ভাইকিং রো’-এর পেছনে রয়েছে উত্তর ইউরোপের হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস। অষ্টম থেকে একাদশ শতক পর্যন্ত স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের নাবিক ও লড়াকু যোদ্ধারা ‘ভাইকিং’ নামে পরিচিত ছিলেন। বর্তমান নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের এই মানুষেরা সমুদ্রযাত্রা ও দূরসাহসী অভিযানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

তাদের ব্যবহৃত দীর্ঘাকৃতির জাহাজ বা ‘লংশিপ’ ছিল সেই যুগের অন্যতম প্রতীক। এই লংশিপগুলো চলত মূলত মানুষের বাহুবলে। কখনো ৩০, কখনোবা ৫০ জন নাবিক একসঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রাচীন সেই নৌকার বৈঠা চালাতেন। আধুনিক সময়ে নরওয়েজিয়ান ফুটবল সমর্থকেরা তাদের সেই গৌরবময় জাতীয় ঐতিহ্য ও লড়াকু মানসিকতাকে ফুটবল মাঠে পুনর্জীবিত করেছেন এই ‘ভাইকিং রো’-এর মাধ্যমে।

মাঠে আর্লিং হালান্ডের অতিমানবীয় ফর্ম, আর গ্যালারিতে নরওয়েজিয়ানদের এই ‘ভাইকিং রো’; সব মিলিয়ে ব্রাজিলের নান্দনিক সাম্বা ফুটবলের বিরুদ্ধে এক কঠিন লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, মাঠের এই ফুটবল মহাকাব্যে শেষ হাসি কারা হাসে; সাম্বার জাদুকরেরা নাকি আধুনিক যুগের এই ভাইকিংরা!

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd