1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

দেশজুড়ে অনুমোদনহীন অবৈধ ইট ভাটায় উৎপাদন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ইট

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

দেশজুড়ে অনুমোদনহীন অবৈধ ইট ভাটায় উৎপাদন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ইট। যা পরিবেশ এবং কৃষির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনুমোদনহীন ওসব ইটভাটার কারণে কৃষিজমির টপসয়েল নষ্ট, ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া, বায়ুদূষণ, কয়লায় সালফারের ব্যবহার এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বর্তমানে দেশে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইটভাটা থাকলেও মাত্র ১ হাজার ৬৭৫টির পরিবেশগত ছাড়পত্র বা নবায়ন রয়েছে। আর বাকি ৫ হাজার ৮৫৫টি ইটভাটারই পরিবেশগত ছাড়পত্র কিংবা নবায়ন নেই। তাছাড়া দেশে থাকা ৬ হাজার ৪০৬টি জিগজ্যাগ ভাটার মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৬২৫টির পরিবেশগত ছাড়পত্র বা নবায়ন রয়েছে। বাকি ৪ হাজার ৭৮১টিরই ছাড়পত্র বা নবায়ন নেই। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পাঁচ ধরনের প্রযুক্তিতে দেশে উৎপাদন হচ্ছে ইট। তার মধ্যে জিগজ্যাগ ভাটা ৬ হাজার ৪০৬টি, হাইব্রিড হফম্যান ৫৪টি, অটোমেটিক বা টানেল কিলন ৩২টি, ফিক্সড ৮০-১২০ ফুট চিমনির ভাটা ৭৮৮টি এবং ড্রাম চিমনির ভাটা ২৫০টি। সব মিলিয়ে ইটভাটার সংখ্যা ৭ হাজার ৫৩০টি। ওসব ভাটার মধ্যে ১ হাজার ৬৭৫টির পরিবেশগত ছাড়পত্র বা নবায়ন রয়েছে। প্রযুক্তিভেদে জিগজ্যাগ ভাটা সবচেয়ে বেশি ছাড়পত্রহীন রয়েছে। তার পরিমাণ ৬ হাজার ৪০৬টির মধ্যে ৪ হাজার ৭৮১টি। আর হাইব্রিড হফম্যানের ৫৪টির মধ্যে ২৪টি এবং অটোমেটিক/টানেল কিলনের ৩২টির মধ্যে ১২টিরও ছাড়পত্র বা নবায়ন নেই। আর পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ ফিক্সড চিমনি ও ড্রাম চিমনির ভাটার ক্ষেত্রে। ওরকম ৭৮৮টি ফিক্সড চিমনি এবং ২৫০টি ড্রাম চিমনি ভাটার কোনোটিরই পরিবেশগত ছাড়পত্র বা নবায়ন নেই।

সূত্র জানায়, দেশে প্রতি বছরই অনুমোদনহীন অবৈধ ইটের ভাটায় উৎপাদন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ইট। বছরে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি পোড়ানো ইট। তার মধ্যে জিগজ্যাগ ভাটাগুলোতেই প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি ইট উৎপাদন হয়। এবার হাইব্রিড হফম্যান ভাটায় ১৪০ কোটি, অটোমেটিক/টানেল কিলনে ১০০ কোটি, ফিক্সড চিমনিতে ৩৯৪ কোটি এবং ড্রাম চিমনিতে প্রায় ১০০ কোটি ইট উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। ফলে পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন বিপুলসংখ্যক ভাটার পাশাপাশি ওসব ভাটার উৎপাদনও সরাসরি প্রবেশ করছে দেশের নির্মাণ খাতে। যদিও আইনে ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে দূরত্বের বিধানও রয়েছে কিন্তু বাস্তবে তা নেই। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, সংশোধিত ২০১৯-এর ধারা ৮(৩) অনুযায়ী নিষিদ্ধ এলাকার সীমারেখা থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপনের বিধান রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায় নিষিদ্ধ স্থানের এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে জিগজ্যাগ ভাটার উল্লেখযোগ্য অংশ। তাছাড়া ইটভাটার প্রভাব শুধু বায়ুদূষণে সীমাবদ্ধ নয়, কৃষিজমির ওপরও  ব্যাপক ক্ষতি করছে। দেশে ইট তৈরিতে বছরে প্রায় ১৫ কোটি টন মাটি ব্যবহৃত হচ্ছে। আর কাঁচা ইট তৈরির জন্য জমির উপরিভাগের প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার টপসয়েল অপসারণ করা হয়। তাতে জমির উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে ফসলের ফলন ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ইটভাটার ধোঁয়া, ছাই ও ধূলিকণা থেকে মাটিতে জমা হতে পারে লেড, ক্যাডমিয়াম ও আর্সেনিক। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণার তথ্যানুযায়ী ইটভাটার এক কিলোমিটারের মধ্যে ধানের ফলন ২০-২৫ শতাংশ, গমের ৩০-৪০ শতাংশ, সরিষার ২৫-৩৫ শতাংশ এবং সবজির ফলন ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। প্রতি বছর দেশে ইট পোড়াতে ৬০ থেকে ৭০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার হয়।

সূত্র আরো জানায়, দেশজুড়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযানও হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ বছরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ২ হাজার ২০৮টি মোবাইল কোর্ট/অভিযান পরিচালনা করে। ওসব অভিযানে ৪ হাজার ৯৮১টি মামলায় ১১৬ কোটি ৮ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। তার মধ্যে আদায় হয়েছে ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সময়ে ১ হাজার ৬৭৮টি ইটভাটা ভেঙে দেয়ার এবং ১৫ লাখ ইট ও ২৪০ টন কয়লা জব্দ করা হয়। তাছাড়া ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরো ১৭৩টি মোবাইল কোর্ট/অভিযান চালানো হয়েছে। ৩৮৪টি মামলায় ৯ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়েছে। ওই সময় ১২৩টি ভাটার চিমনি ভেঙে দেয়া এবং ৫৬টি অবৈধ ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

এদিকে অবৈধ ইটা ভাটা বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশ বিগত চার বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এক রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিগত ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর দেশের সব জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলো। একই সঙ্গে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার সাত দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবে প্রায় চার বছর পার হলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।

অন্যদিকে সার্বিক বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক মো. মাহবুব জামিল জানান, ‘সামনে শুষ্ক মৌসুম আসছে এবং ইটভাটাগুলো মূলত ওই সময়েই চালিত হয়। ইতিমধ্যে অবৈধ ইটভাটাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত, সব ধরনের অবৈধ ইটভাটা, বিশেষ করে কাঠ পোড়ানো (উড বার্ন), ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোকে এবার কোনোভাবেই চলতে দেয়া হবে না। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হবে জোরদার অভিযান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd