1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার সন্তোষজনক ফলাফল ,আশার আলো দেখাচ্ছে অভিভাবকদের 

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

‎নজরুল ইসলাম, কুতুবদিয়া (কক্সবাজার): ‎দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা। নানা প্রতিকূলতা ও  সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি আশাব্যঞ্জক ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় ৬৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুই শিক্ষার্থী।

‎

‎সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলে যখন হতাশার চিত্র দেখা যাচ্ছে, তখন বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির জন্য ইতিবাচক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ফলাফলের ধারাবাহিকতা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

‎

‎গত পাঁচ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল শতভাগ। ২০২৩ সালে ৯৫ দশমিক ১২ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ৬০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সর্বশেষ ফলাফলে পাসের হার কমলেও দুই শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

 

‎মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ২৬ জন শিক্ষকসহ মোট ৩২ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকও নিয়োজিত আছেন। শিক্ষার পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার মান আরও উন্নত করার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে আলিম ও ফাযিল পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা প্রত্যাশিত পর্যায়ে না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও কর্মচারীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থী বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

‎

‎স্থানীয়দের অভিমত,দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও পরিচালনা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সন্তানদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো প্রয়োজন।

‎

তাঁদের মতে, বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় বিদ্যমান শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। এজন্য নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজরদারি, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ফলাফল উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

 

‎কুতুবদিয়ার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিচিতি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেকে সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।

‎

‎সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও শিক্ষার্থী আকর্ষণে সক্ষম হবে। সাম্প্রতিক ফলাফলের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শিক্ষার মান ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। ঐতিহ্য, অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং বিদ্যমান শিক্ষাসুবিধাকে পুঁজি করে বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা আগামী দিনে কুতুবদিয়ার শিক্ষাক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, এমন প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd