1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

ইয়েমেনের হুতিদের দমনে বৈশ্বিক অভিযানের ডাক সৌদি রাষ্ট্রদূতের

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বিদেশ: জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এর মতো ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দমন করতেও আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন গঠন করে অভিযান চালানোর ডাক দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রিমা বিনতে বানদার।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, হুতিরা কেবল ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আঞ্চলিক সীমানা পেরিয়ে তারা ক্রমেই বিশ্বজুড়ে এক বড় সন্ত্রাসী হুমকি হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত রিমার এক মতামত প্রতিবেদন তুলে ধরে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আল অ্যারাবিয়া ইংলিশ’ এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত রিমা। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে সৌদি আরবের এই রাষ্ট্রদূত বলেন, “৮০টিরও বেশি দেশের কোয়ালিশন স্থানীয় বাহিনীর সহায়তায় জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস-কে পরাস্ত করেছিল। একইভাবে হুতিদেরও পরাজিত করা সম্ভব।” তবে এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে ইয়েমেনকেই।
হামলায় নিজে আহত হওয়ার পরও যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং আহতদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসা ‘রিয়াদ এয়ার’-এর যাত্রীসেবা কর্মী ইবতিহাল বিনতে আব্দুল্লাহর সাহসিকতার প্রশংসা করেন রিমা বিনতে বান্দার।
তিনি লেখেন, “হুতিরা ভয় ও আতঙ্ক ছড়াতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, আর ইবতিহাল তার সাহসিকতা দিয়ে তার জবাব দিয়েছেন।”
বিমানবন্দর হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, যে দৃঢ়তা নিয়ে বিশ্ব আইএস-কে পরাজিত করেছিল, হুতিদের বিরুদ্ধেও একই মানসিকতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে।
তিনি জানান, ইরানের সহায়তায় হুতিরা একটি অত্যাধুনিক সামরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ২০১৬ সালের মার্চ থেকে তারা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ১ হাজারেরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যের বরাতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হুতি প্রকৌশলীরা সোমালিয়ার আল-শাবাব জঙ্গিদের সঙ্গে বোমা তৈরি ও ড্রোন প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে হুতিদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের তথ্যও সামনে এসেছে।
গোষ্ঠীটির বিপজ্জনক রূপ তুলে ধরে রিমা লেখেন, “ইরাকের মোসুল দখল ও খিলাফতের ঘোষণার আগে আইএস যা ছিল, আজকের হুতিরাও ঠিক তা-ই। বিশ্বের দেশগুলো এতদিন এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অবমূল্যায়ন করেছিল”।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের প্রতিটি দেশকেই হুতিদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা বা ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি হুতিদের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অস্ত্রের চালান জব্দ করা এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেন তিনি।
রিমা লেখেন, “একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে হুতিদের নির্মূল করার স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।”
ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক ও মানবিক সহায়তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে রিমা বলেন, হুতিদের সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই লড়াইয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকেই সামনের কাতারে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, হুতিদের সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ করাই ইয়েমেনিদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক সমঝোতা বাস্তবায়নের একমাত্র পথ, যা সৌদি আরব সব সময় সমর্থন করে আসছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd