বিদেশ : চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি’ অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্যবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা। গতকাল শুক্রবার চীনে শেষ হতে যাওয়া এ আলোচনায় সুনির্দিষ্ট ফলাফল অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গত বৃহস্পতিবার রাতে বেইজিংয়ে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ইইউ’র বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ বলেন, ‘টানা তিন মাসের নিবিড় আলোচনার ভিত্তিতে আমরা ইইউ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করছি।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এঙ্-এ ওয়াংয়ের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে সেফকোভিচ আরো বলেন, ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক পরামর্শ প্রক্রিয়ার আওতায় আমাদের আলোচনার প্রথম ধাপে বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।’ এর আগে বৃহস্পতিবার সেফকোভিচ বলেছেন, চীনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৈনিক বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১০০ কোটি ইউরো বা ১১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়। চীন থেকে কম দামে পণ্য আমদানির কারণে ইউরোপের শিল্প খাত মারাত্মক চাপে পড়েছে। এর ফলে ইউরোপজুড়ে হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। ইউরোপের অনেকেই চীনের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিপুল ভর্তুকি দিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দেওয়া, রপ্তানিপণ্যের দাম অস্বাভাবিক কমিয়ে প্রতিযোগীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং মুদ্রার বিনিময়মূল্য কারসাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে সুবিধা নেওয়া। তবে চীনকে ক্ষুব্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়াও ইউরোপের জন্য সহজ নয়। কারণ, চীন চাইলে বিরল মৃত্তিকা খনিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ সীমিত করতে পারে। একই সঙ্গে চীনের বাজারে ইউরোপীয় পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রেও নানা বাধা সৃষ্টি করতে পারে বেইজিং। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের জন্যও এ আলোচনার গুরুত্ব অনেক। কারণ, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি দুর্বল থাকায় সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে চীন ব্যাপকভাবে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। ইইউ পার্লামেন্টের বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির প্রধান বার্ন্ড লাঙ্গে সেফকোভিচের চীন সফরের আগে বলেন, চীনের বর্তমান ‘অর্থনৈতিক সংকট’ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আলোচনায় দর-কষাকষির বাড়তি ক্ষমতা দিচ্ছে।