1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশে ফেরার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। দুবাই হয়ে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, ফ্লাইটটি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

নিউইয়র্ক ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীকে বিদায় জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর আগে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের টার্মিনালের বাইরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রবাসী নেতাকর্মীরাও সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছায়। ৩৫ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ছাড়াও ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।

জাতিসংঘে বাংলায় প্রথম ভাষণ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন। ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে জনগণের ক্ষমতায়ন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত এবং একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা থ্রি-আর কৌশলের কথা জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের একমাত্র সমাধান। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

গুতেরেসসহ জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক
সফরকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গুতেরেস। জলবায়ু সহনশীলতা ও বহুপক্ষীয় কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।

এ ছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী অংশ নেন। পরে তাঁরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেন।

বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
সফরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন তারেক রহমান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পায়।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-এমের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সফরের শেষ দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংক ও ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদার এবং অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন তিনি।

২৩ সেপ্টেম্বর গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মানবিক চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।

গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে জনস্বাস্থ্য, শিশুসেবা, টিকাদান, সাশ্রয়ী মূল্যের টিকা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে বার্তা
‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানান তিনি।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমানো, পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অভিযোজন অর্থায়ন, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা
বাংলাদেশ, সুইডেন ও ইউএনএফপিএ আয়োজিত ধাত্রীবিদ্যাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে ‘সুস্থ বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্রীয় ভিত্তি হিসেবে রাখার কথা জানান তিনি।

সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী থাকবেন। একইসঙ্গে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ বা ধাত্রী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি
সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কর্মসূচির পাশাপাশি সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন দেশের পথে। সূচি অনুযায়ী, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd