Dhaka ১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৪ সালে বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ বেড়েছে তিন গুণ দ্রুত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৭৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ আগের বছরের তুলনায় তিন গুণ দ্রুত বেড়েছে বলে জানিয়েছে বৈশ্বিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ অঙ্ফাম ইন্টারন্যাশনাল। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বের রাজনৈতিক ও আর্থিক এলিটরা যখন বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক বৈষম্য নিয়ে সর্বশেষ মূল্যায়নে অঙ্ফাম জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় বিলিয়নিয়ারদের সম্মিলিত সম্পদ দুই ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসের করা বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের হিসাব এবং বিশ্বব্যাংকের তথ্যসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ‘টেকার্স নট মেকার্স’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন ২ হাজার ৭৬৯ জন। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২০৪ জন বেশি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বছরে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে চারজন নতুন বিলিয়নিয়ার যুক্ত হয়। তাদের এসব সম্পদের পাঁচ ভাগের তিন ভাগই এসেছে উত্তরাধিকার সূত্রে এবং একচেটিয়া ক্ষমতা থেকে। আমাদের বিশ্ব অর্থনীতি দখল মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের দখলে। বিষয়টি এখন এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা একসময় অকল্পনীয় বলে মনে করা হত। কোটিপতিদের থামাতে ব্যর্থতা এখন শিগগিরই ট্রিলিয়নেয়ারের জন্ম দিচ্ছে। অঙ্ফাম ইন্টারন্যাশনালের এঙ্িিকউটিভ ডিরেক্টর অমিতাভ বেহার বলেন, বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ সঞ্চয়ের হার শুধু তিন গুণ বেড়েছে তাই নয়, সঙ্গে সঙ্গে তাদের ক্ষমতাও বেড়েছে। অঙ্ফাম জানিয়েছে, একক ধনকুবেরের সম্পদ গড়ে প্রতিদিন ২০ লাখ ডলার করে বেড়েছে। শীর্ষ ১০ ধনকুবেররা প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি ডলার করে অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। এমনকি যদি তারা রাতারাতি তাদের সম্পদের ৯৯ শতাংশ হারিয়ে ফেলেন, তবুও তারা কোটিপতিই থেকে যাবেন। বৈশ্বিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপটি বৈষম্য কমাতে এবং ‘নতুন অভিজাততন্ত্রকে ভেঙে ফেলতে’ ধনীদের উপর কর আরোপের জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে একচেটিয়া ব্যবসা ভেঙে দেওয়া, সিইওদের বেতন বেঁধে দেওয়া এবং কর্পোরেশনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে – যাতে সরকার শ্রমিকদের ‘জীবনধারণের মজুরি’ নিশ্চিত করতে পারে।

 

Tag :
About Author Information

২০২৪ সালে বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ বেড়েছে তিন গুণ দ্রুত

Update Time : ০৮:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ আগের বছরের তুলনায় তিন গুণ দ্রুত বেড়েছে বলে জানিয়েছে বৈশ্বিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ অঙ্ফাম ইন্টারন্যাশনাল। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বের রাজনৈতিক ও আর্থিক এলিটরা যখন বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক বৈষম্য নিয়ে সর্বশেষ মূল্যায়নে অঙ্ফাম জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় বিলিয়নিয়ারদের সম্মিলিত সম্পদ দুই ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসের করা বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের হিসাব এবং বিশ্বব্যাংকের তথ্যসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ‘টেকার্স নট মেকার্স’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন ২ হাজার ৭৬৯ জন। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২০৪ জন বেশি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বছরে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে চারজন নতুন বিলিয়নিয়ার যুক্ত হয়। তাদের এসব সম্পদের পাঁচ ভাগের তিন ভাগই এসেছে উত্তরাধিকার সূত্রে এবং একচেটিয়া ক্ষমতা থেকে। আমাদের বিশ্ব অর্থনীতি দখল মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের দখলে। বিষয়টি এখন এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা একসময় অকল্পনীয় বলে মনে করা হত। কোটিপতিদের থামাতে ব্যর্থতা এখন শিগগিরই ট্রিলিয়নেয়ারের জন্ম দিচ্ছে। অঙ্ফাম ইন্টারন্যাশনালের এঙ্িিকউটিভ ডিরেক্টর অমিতাভ বেহার বলেন, বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ সঞ্চয়ের হার শুধু তিন গুণ বেড়েছে তাই নয়, সঙ্গে সঙ্গে তাদের ক্ষমতাও বেড়েছে। অঙ্ফাম জানিয়েছে, একক ধনকুবেরের সম্পদ গড়ে প্রতিদিন ২০ লাখ ডলার করে বেড়েছে। শীর্ষ ১০ ধনকুবেররা প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি ডলার করে অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। এমনকি যদি তারা রাতারাতি তাদের সম্পদের ৯৯ শতাংশ হারিয়ে ফেলেন, তবুও তারা কোটিপতিই থেকে যাবেন। বৈশ্বিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপটি বৈষম্য কমাতে এবং ‘নতুন অভিজাততন্ত্রকে ভেঙে ফেলতে’ ধনীদের উপর কর আরোপের জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে একচেটিয়া ব্যবসা ভেঙে দেওয়া, সিইওদের বেতন বেঁধে দেওয়া এবং কর্পোরেশনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে – যাতে সরকার শ্রমিকদের ‘জীবনধারণের মজুরি’ নিশ্চিত করতে পারে।