Dhaka ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ দলীয় ঐক্য জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩১ Time View

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে আনা সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব উপেক্ষা করার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে জোটের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের বাসভবনে এক জরুরি বৈঠক শেষে এই কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, “সরকারের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে দেনদরবার এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমাদের এই ঐক্য। বর্তমান জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসক বসিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে অপচেষ্টা সরকার করছে, তা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, সেই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলাম। কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করতে চায়নি। তারা সংস্কারের বদলে সংবিধান সংশোধন করতে চায়, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। আমরা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন ডাকার দাবি জানাচ্ছি।”

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “সংসদ পরিচালনায় সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও সংসদে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে। তেলের অভাবে স্কুল অনলাইন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মেধাশূন্য করার একটি পাঁয়তারা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে; প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি ঘটছে। জনগণের সার্বভৌম অধিকার ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।”

শুক্রবার (৭ এপ্রিল) জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আরও একটি বৈঠক করবে। এরপর দেশব্যাপী গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে।

Tag :
About Author Information

১১ দলীয় ঐক্য জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

Update Time : ১১:৪৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে আনা সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব উপেক্ষা করার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে জোটের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের বাসভবনে এক জরুরি বৈঠক শেষে এই কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, “সরকারের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে দেনদরবার এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমাদের এই ঐক্য। বর্তমান জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসক বসিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে অপচেষ্টা সরকার করছে, তা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, সেই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলাম। কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করতে চায়নি। তারা সংস্কারের বদলে সংবিধান সংশোধন করতে চায়, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। আমরা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন ডাকার দাবি জানাচ্ছি।”

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “সংসদ পরিচালনায় সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও সংসদে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে। তেলের অভাবে স্কুল অনলাইন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মেধাশূন্য করার একটি পাঁয়তারা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে; প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি ঘটছে। জনগণের সার্বভৌম অধিকার ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।”

শুক্রবার (৭ এপ্রিল) জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আরও একটি বৈঠক করবে। এরপর দেশব্যাপী গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে।