ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেই শপথ, হুমায়ুন কবিরের নিয়োগে আইনের ব্যত্যয় হয়নি: আইনমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেই সাংবিধানিকভাবে শপথ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তার নিয়োগ ও শপথ গ্রহণে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। সংবিধান মেনেই তাকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তার শপথ গ্রহণেও আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, “পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তার শপথ গ্রহণে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। বাংলাদেশ সরকারের সব কার্যক্রম সংবিধান মেনেই হচ্ছে।”
হুমায়ুন কবির গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। শপথের পর তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কর্মদিবসে সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হুমায়ুন কবির। সেদিনও তার নাগরিকত্বের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।
এদিকে অনুষ্ঠানে দেশের আইন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা, গুম ও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি বন্ধ করে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সরকার গঠনের পর পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মিথ্যা মামলা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ভুক্তভোগী নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে রাষ্ট্র তার পাশে থাকবে। প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সব সমস্যার সমাধানের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া জরুরি নয়। আরবিট্রেশন, আলাপ-আলোচনা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেও অনেক বিরোধের সমাধান করা সম্ভব।