Dhaka ০৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদিকে হত্যাচেষ্টা, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭০ Time View

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকা থেকে এসব আলামত উদ্ধার করে পরে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট জানায়, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে বনলতা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির নিচতলার পার্কিং থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় হামলায় ব্যবহৃত হোন্ডা হর্নেট মোটরসাইকেল ও একটি হেলমেট উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকায় একটি ম্যানহোলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত ভুয়া নম্বর প্লেটটি।

এই হামলার ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায়। পুলিশ জানায়, চলন্ত একটি রিকশায় থাকা অবস্থায় পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের যাত্রী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি তাঁর মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট পরিবর্তনের বিষয়টি প্রথমে শনাক্ত করা হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল ও হেলমেট উদ্ধার করা হয়। ভুয়া নম্বর প্লেটটি হামলার পর আলাদা করে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ম্যানহোলের ভেতর থেকে পাওয়া যায়।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্তে নিবিড় তদন্ত করা হয়েছে। প্রথমে এটি আব্দুর রহমানের মালিকানায় ছিল। পরে বিভিন্ন ব্যক্তির হাত ঘুরে মোট আটজনের মাধ্যমে মালিকানা বদল হয়। সর্বশেষ হামলার সঙ্গে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদের সহযোগী মো. কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে মোটরসাইকেলটি কেনা হয়।”

পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার ঘটনায় জড়িত মূল সন্দেহভাজন হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখের নাম উঠে এসেছে। তাঁরা বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যক্তিকে র্যাব গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তবে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা আলামতগুলো ফরেনসিক পরীক্ষাসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হামলার পেছনের উদ্দেশ্য ও জড়িতদের পুরো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
About Author Information

হাদিকে হত্যাচেষ্টা, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার

Update Time : ১২:১২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকা থেকে এসব আলামত উদ্ধার করে পরে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট জানায়, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে বনলতা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির নিচতলার পার্কিং থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় হামলায় ব্যবহৃত হোন্ডা হর্নেট মোটরসাইকেল ও একটি হেলমেট উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকায় একটি ম্যানহোলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত ভুয়া নম্বর প্লেটটি।

এই হামলার ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায়। পুলিশ জানায়, চলন্ত একটি রিকশায় থাকা অবস্থায় পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের যাত্রী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি তাঁর মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট পরিবর্তনের বিষয়টি প্রথমে শনাক্ত করা হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল ও হেলমেট উদ্ধার করা হয়। ভুয়া নম্বর প্লেটটি হামলার পর আলাদা করে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ম্যানহোলের ভেতর থেকে পাওয়া যায়।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্তে নিবিড় তদন্ত করা হয়েছে। প্রথমে এটি আব্দুর রহমানের মালিকানায় ছিল। পরে বিভিন্ন ব্যক্তির হাত ঘুরে মোট আটজনের মাধ্যমে মালিকানা বদল হয়। সর্বশেষ হামলার সঙ্গে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদের সহযোগী মো. কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে মোটরসাইকেলটি কেনা হয়।”

পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার ঘটনায় জড়িত মূল সন্দেহভাজন হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখের নাম উঠে এসেছে। তাঁরা বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যক্তিকে র্যাব গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তবে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা আলামতগুলো ফরেনসিক পরীক্ষাসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হামলার পেছনের উদ্দেশ্য ও জড়িতদের পুরো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।