Dhaka ১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টের নির্দেশ কুমিল্লায় সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যম থেকে সরাতে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
  • ১৫১ Time View

কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি গ্রামে বসতঘরের দরজা ভেঙে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় হাইকোর্ট নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ওই নারীর নির্যাতনের ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রোববার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের অগ্রগতি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

এদিকে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে পুলিশ ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান রবিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফজর আলী কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাহেরচর পাচকিত্তা গ্রামের পূর্বপাড়ার শহীদ মিয়ার ছেলে। তার বয়স ৩৮ বছর।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হোমনা থেকে মুরাদনগরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে পূর্বপরিচিত ফজর আলী ২৬ জুন রাতে ওই নারীর বসতঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে এবং তাকে ধর্ষণ করে। ফজর আলী চলে যাওয়ার সময় ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে ধরে ফেলে এবং মারধর করে। এ সময় কয়েকজন ওই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে। পরে অভিযুক্তের স্বজনেরা আহত অবস্থায় ফজর আলীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরদিন শুক্রবার ভুক্তভোগী নারী ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। জানা গেছে, টাকা ধার নেওয়া নিয়ে ফজর আলীর সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের পূর্বপরিচিতি ছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রথমে ভিডিও ধারণের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়নি।

এ ঘটনায় ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই মুরাদনগরের পাচকিত্তা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন অনিক, সুমন, রমজান ও বাবু। পুলিশ জানায়, কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আলাদা মামলাও করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানান, মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

এ ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগকে অনেকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ভুক্তভোগী নারী নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, যা বিচার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

হাইকোর্টের নির্দেশ কুমিল্লায় সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যম থেকে সরাতে

Update Time : ০১:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি গ্রামে বসতঘরের দরজা ভেঙে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় হাইকোর্ট নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ওই নারীর নির্যাতনের ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রোববার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের অগ্রগতি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

এদিকে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে পুলিশ ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান রবিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফজর আলী কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাহেরচর পাচকিত্তা গ্রামের পূর্বপাড়ার শহীদ মিয়ার ছেলে। তার বয়স ৩৮ বছর।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হোমনা থেকে মুরাদনগরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে পূর্বপরিচিত ফজর আলী ২৬ জুন রাতে ওই নারীর বসতঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে এবং তাকে ধর্ষণ করে। ফজর আলী চলে যাওয়ার সময় ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে ধরে ফেলে এবং মারধর করে। এ সময় কয়েকজন ওই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে। পরে অভিযুক্তের স্বজনেরা আহত অবস্থায় ফজর আলীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরদিন শুক্রবার ভুক্তভোগী নারী ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। জানা গেছে, টাকা ধার নেওয়া নিয়ে ফজর আলীর সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের পূর্বপরিচিতি ছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রথমে ভিডিও ধারণের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়নি।

এ ঘটনায় ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই মুরাদনগরের পাচকিত্তা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন অনিক, সুমন, রমজান ও বাবু। পুলিশ জানায়, কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আলাদা মামলাও করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানান, মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

এ ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগকে অনেকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ভুক্তভোগী নারী নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, যা বিচার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।