মোঃ নাজমুল মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পানগুচি নদীর উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইউনিয়নগুলো নিয়ে প্রস্তাবিত ‘সেলিমাবাদ’ নামে নতুন থানা প্রতিষ্ঠার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। দীর্ঘদিনের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পর এবার প্রস্তাবিত থানার স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) অতিরিক্ত আইজিপি (উন্নয়ন) এর নির্দেশনায় বাগেরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিতুর রহমান প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানার সম্ভাব্য স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা ও থানার জন্য সম্ভাব্য স্থানগুলো পর্যালোচনা করেন।
এ সময় মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল্লাহ,প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শেখ নজরুল ইসলাম কাজল, দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ মিজানুর রহমান ডিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আলম পারভেজ লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল আলম, অ্যাডভোকেট খান কেরামত আলী, মাস্টার লুৎফর রহমান, বাবু পীযূষ কুমার সাহাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিন পরিদর্শন ও পর্যালোচনা শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থানার জন্য সম্ভাব্য তিনটি স্থান নির্বাচন করেন। এর মধ্যে হাইওয়ে সংলগ্ন লুৎফর রহমান তালুকদারের বসতবাড়ির স্থানটিকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে তিনি মতামত দেন। পাশাপাশি দৈবজ্ঞহাটী এলাকায় থানার জন্য উপযুক্ত স্থান রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শেখ নজরুল ইসলাম কাজলের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করা হয়। আবেদনে মোরেলগঞ্জ উপজেলার পানগুচি নদীর উত্তর ও উত্তর-পূর্ব পাশে অবস্থিত ইউনিয়নগুলোকে নিয়ে ‘সেলিমাবাদ’ নামে নতুন থানা প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পানগুচি নদীর কারণে নদীর দুই পাড়ের মানুষের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ভোগান্তি রয়েছে। বিশেষ করে নদী পারাপার ও দূরত্বের কারণে জরুরি মুহূর্তে পুলিশি সেবা পেতে সময় লাগে। পৃথক থানা প্রতিষ্ঠা করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে করা আবেদনপত্রের ছায়ালিপি ও সংযুক্তিসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। চিঠিটির একটি অনুলিপি বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
সংগ্রাম পরিষদ ও স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকেই এ অঞ্চলে পৃথক থানা প্রতিষ্ঠার দাবি চলে আসছে। এ দাবিতে এর আগে মোরেলগঞ্জে মানববন্ধন, জনসভা, র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশ সদর দপ্তরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে স্থান পরিদর্শনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে সেলিমাবাদ থানা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তবে চূড়ান্তভাবে থানা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।