Dhaka ০৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক সমন্বয়কসহ পাঁচজন চাঁদাবাজির অভিযোগে কারাগারে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৫৮ Time View

ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাঁদা দাবির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে মহানগর হাকিম আতিকুর রহমান আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।

গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন আবু সুফিয়ান, আব্দুর রহমান ওরফে মানিক, হাসিবুর রহমান ফরহাদ ও শাহিন হোসেন। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় একটি হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে। পরে হাসপাতালের মালিক আফরুজা শিল্পী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে শাহিন তার স্ত্রীকে সন্তান প্রসবের জন্য মোহাম্মদপুরের ‘সেইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নিয়ে আসেন। নবজাতকের অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও তাঁর অনুরোধে সেখানে সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। তবে নবজাতক মৃত জন্ম নেয়। বিষয়টি জানিয়ে মানবিক কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো অর্থ না নিয়েই ছাড়পত্র দেয়।

বাদীর অভিযোগ, ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাব্বিসহ কয়েকজন হাসপাতালে এসে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না করার বিনিময়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তাঁরা হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেন এবং একজনকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে চলে গেলেও বাকিটা পরিশোধ করতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পশ্চিম ধানমন্ডির একটি স্থানে ডেকে এক লাখ টাকা আদায় করেন। এরপর সেনাবাহিনী ও পুলিশ অভিযানে গিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাব্বির বিরুদ্ধে আগে থেকেই আরও একটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। গত মে মাসে ধানমন্ডিতে হাক্কানী পাবলিশার্সের মালিক গোলাম মোস্তফার বাসা ঘিরে রাখার ঘটনায়ও তিনি আটক হয়েছিলেন। তখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ থানায় গিয়ে মুচলেকা দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন। একইভাবে রবিবার রাতের ঘটনায়ও তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রফিক গণমাধ্যমকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয় ব্যবহার করে আসামিরা হাসপাতাল মালিকের কাছে টাকা দাবি করেন। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী তাঁদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

Tag :
About Author Information

সাবেক সমন্বয়কসহ পাঁচজন চাঁদাবাজির অভিযোগে কারাগারে

Update Time : ০১:১৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাঁদা দাবির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে মহানগর হাকিম আতিকুর রহমান আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।

গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন আবু সুফিয়ান, আব্দুর রহমান ওরফে মানিক, হাসিবুর রহমান ফরহাদ ও শাহিন হোসেন। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় একটি হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে। পরে হাসপাতালের মালিক আফরুজা শিল্পী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে শাহিন তার স্ত্রীকে সন্তান প্রসবের জন্য মোহাম্মদপুরের ‘সেইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নিয়ে আসেন। নবজাতকের অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও তাঁর অনুরোধে সেখানে সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। তবে নবজাতক মৃত জন্ম নেয়। বিষয়টি জানিয়ে মানবিক কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো অর্থ না নিয়েই ছাড়পত্র দেয়।

বাদীর অভিযোগ, ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাব্বিসহ কয়েকজন হাসপাতালে এসে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না করার বিনিময়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তাঁরা হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেন এবং একজনকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে চলে গেলেও বাকিটা পরিশোধ করতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পশ্চিম ধানমন্ডির একটি স্থানে ডেকে এক লাখ টাকা আদায় করেন। এরপর সেনাবাহিনী ও পুলিশ অভিযানে গিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাব্বির বিরুদ্ধে আগে থেকেই আরও একটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। গত মে মাসে ধানমন্ডিতে হাক্কানী পাবলিশার্সের মালিক গোলাম মোস্তফার বাসা ঘিরে রাখার ঘটনায়ও তিনি আটক হয়েছিলেন। তখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ থানায় গিয়ে মুচলেকা দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন। একইভাবে রবিবার রাতের ঘটনায়ও তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রফিক গণমাধ্যমকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয় ব্যবহার করে আসামিরা হাসপাতাল মালিকের কাছে টাকা দাবি করেন। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী তাঁদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।