1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন

‎শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে জীবনের ঝুঁকি ও ঋণের বোঝা নিয়ে জেলেদের সমুদ্রযাত্রা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

‎ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা) :‎   খুলনার পাইকগাছা উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের জন্য জীবনের ঝুঁকি ও ঋণের বোঝা নিয়ে সমুদ্রে যাত্রা শুরু করেছেন। তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের বোঝা এবং জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ঐতিহ্যবাহী দুবলার চর ও গভীর সাগরের উদ্দেশ্যে তাদের এ যাত্রা শুরু।
‎প্রতি বছর  শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ (দাদন) নিয়ে সাগরে যান। কিন্তু জলদস্যুদের ভয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত সংকটাপন্ন করে তোলে।
‎উপজেলার বোয়ালীয়া, মাহামুদকাঠি, হিতামপুর, কাটাখালী, হাবিবনগর, নোয়াকাঠি, রামনাথপুর ও কাঠিপাড়া গ্রামের প্রায় ৩শত পরিবার সমুদ্রে মত্স্য আহরণের সঙ্গে জড়িত। সাগরে যাওয়ার আগে নৌকা মেরামত, জাল কেনা এবং রসদ ও জ্বালানি সংগ্রহের জন্য জেলেরা স্থানীয় দাদনদার ও মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন। মাছ বিক্রি করে এই ঋণ শোধ করতে না পারলে তারা চরম বিপাকে পড়েন।
‎পাইকগাছা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য পাইকগাছার জেলে পল্লীগুলোর ১৯৫০জন জেলে তালিকাভূক্ত রয়েছে এবং তারা সরকারি খাদ্য সহায়তা পান।
‎শিবসা ও পশুর নদী হয়ে জেলেরা মূলত সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোর কোল এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর অংশে মাছ ও শুঁটকি আহরণের জন্য অবস্থান নেন। পাইকগাছা থেকে রওনা দিয়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে তার মোংলায় অবস্থান করবে। নিষেধাজ্ঞা সময় শেষ হলে পাস পারমিট নিয়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে অস্থায়ী জেলে পল্লী তৈরি করে থাকবেন।
‎জেলেরা সমুদ্রে মৎস্য আহরণকে ঘিরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুকি নিয়ে চলেছে উপকূলের জেলেরা। সাগরে যেতে যে যার মত প্রস্তুত করছেন জাল, দড়ি, নৌকা-ট্রলার। কেউ কেউ গড়ছেন নতুন ট্রলার, আবার কেউ পুরাতন নৌকা মেরামত করে নিয়েছেন। প্রস্তুতি অনুযায়ী অনেকেই আগেভাগে রওনা দিয়েছেন।
‎খুলনা জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পলি জমে ভরাট হওয়ায় শুধুমাত্র সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে ও নানা প্রতিকূলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি জেলে পরিবারগুলো। তফশীলি ব্যাংক থেকে জেলেদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করার কথা থাকলেও বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেওয়ায় তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়।
‎বঙ্গোপসাগরের আকস্মিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং নিম্নচাপের কারণে প্রায়ই জেলেদের নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। অনেক সময় আধুনিক রেডিও বা জিপিএস ট্র্যাকিং সুবিধা না থাকায় তারা সময়মতো নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে পারেন না।পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া জেলে পল্লীর বাসিন্দা অশোক বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছর আমরা মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ করে সমুদ্রে যাই। সরকারিভাবে আমরা তেমন কোন সাহায্য সহযোগীতা পাইনা। সুন্দরবনে জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত ও মুক্তিপণ আদায়সহ আসাধু বনরক্ষীদের দৌরাত্ম্য কিছুটা বন্ধ হলেও এখনও সীমাহীন সমস্যায় মধ্যে থাকতে হয় আমাদের।বোয়ালিয়ার জেলে সিতেনাথ বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতি বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র থেকে মাছ ধরে কোটি টাকার রাজস্ব দেই সরকারকে। কিন্তু আমরা সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য কোন ঋণ পাই না। জেলেদের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণসহ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd