লুট হওয়া অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোট হবে আরও সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কোস্টগার্ডের ৪০ জন সদস্যের হাতে পদক তুলে দেন তিনি।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনে কোস্টগার্ডের সব সদস্যকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এ ধরনের আচরণ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। শান্ত পরিবেশ বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
এর আগে লিখিত বক্তব্যেও কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের দলীয় পক্ষপাত সহ্য করা হবে না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কোস্টগার্ড দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১৮ জানুয়ারি থেকে মোতায়েন হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৮ দিন উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী দুর্গম এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোস্টগার্ডের ১০০ প্লাটুনের প্রায় ৩৫০০ সদস্য মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন প্রস্তুতি ভোটের পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 













