Dhaka ১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুশ হামলার মধ্যেই জেনেভায় শান্তি আলোচনা, মুখোমুখি মস্কো ও কিয়েভ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৭ Time View

বিদেশ : চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার জেনেভায় আবারও বৈঠকে বসছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই এ আলোচনা হচ্ছে। জেনেভা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সংঘাতে নিজেকে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় আগের দুই দফা বৈঠকেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউক্রেনের দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসা উচিত।’ ইউক্রেনের দাবি, বিস্তৃত ভূখণ্ড ও রাজনৈতিক দাবির প্রশ্নে রাশিয়া কোনো আপস করতে রাজি নয়। তারা যুদ্ধ চালিয়েই যেতে চায়। গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘জেনেভার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আগের দিনেও রুশ সেনাবাহিনীর কাছে ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ ছাড়া অন্য কিছু নেই। এতে স্পষ্ট হয় যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে রাশিয়া কীভাবে দেখছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার ওপর যথেষ্ট চাপ ও ইউক্রেনের জন্য স্পষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকলেই কেবল এই যুদ্ধ বাস্তবসম্মতভাবে শেষ করা সম্ভব।’ ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেনেভার বৈঠকটি হবে বন্ধ দরজার আড়ালে। সেখানে গণমাধ্যম উপস্থিত থাকবে না। এর আগে চলতি বছর আবুধাবিতে দুই দফা আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এতে লাখো মানুষ নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা যুদ্ধের ক্ষতে জর্জরিত। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ও ২০২২ সালে হামলা চালানোর আগে মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো। যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে কৌশলগত ও শক্তভাবে সুরক্ষিত বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার চায় মস্কো। রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে স্পর্শকাতর এ দাবি কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়ার সঙ্গে কোনো প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার আগে পশ্চিমাদের কাছ থেকে শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করেছে তারা। থেকে প্রাপ্ত তথ্যের এএফপি বিশ্লেষণ অনুসারে, ইউক্রেন সমপ্রতি যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, গত সপ্তাহে ২০১ বর্গকিলোমিটার পুনরুদ্ধার করেছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য এএফপির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ২০১ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে। আইএসডব্লিউ বলেছে, রুশ বাহিনীর স্টারলিংকে প্রবেশাধিকার না থাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এতে ইউক্রেন পাল্টা হামলা চালানোর সুবিধা পেয়েছে। স্টারলিংক হলো ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএঙ্রে মালিকানাধীন একটি বৈশ্বিক উপগ্রহ-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা, যা পৃথিবীর দুর্গম এলাকাগুলোতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করে। নতুন করে দখল করা এলাকা মূলত জাপোরিঝঝিয়া শহরের প্রায় ৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। গত গ্রীষ্ম থেকে এ অঞ্চলে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। এ কেন্দ্রীয় অঞ্চলেই রয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। এটিও আলোচনার অচলাবস্থার অন্যতম বিষয়। জেনেভার আলোচনায় রাশিয়ার প্রধান আলোচক হিসেবে আবারও দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী অবস্থানের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি। ভ্লাদিমির পুতিনের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার আমরা বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই। বিশেষ করে ভূখণ্ড ও অন্যান্য মূল দাবিগুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে।’ কিয়েভের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ব্যবসায়ী ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

রুশ হামলার মধ্যেই জেনেভায় শান্তি আলোচনা, মুখোমুখি মস্কো ও কিয়েভ

Update Time : ১১:৩৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদেশ : চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার জেনেভায় আবারও বৈঠকে বসছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই এ আলোচনা হচ্ছে। জেনেভা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সংঘাতে নিজেকে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় আগের দুই দফা বৈঠকেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউক্রেনের দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসা উচিত।’ ইউক্রেনের দাবি, বিস্তৃত ভূখণ্ড ও রাজনৈতিক দাবির প্রশ্নে রাশিয়া কোনো আপস করতে রাজি নয়। তারা যুদ্ধ চালিয়েই যেতে চায়। গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘জেনেভার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আগের দিনেও রুশ সেনাবাহিনীর কাছে ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ ছাড়া অন্য কিছু নেই। এতে স্পষ্ট হয় যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে রাশিয়া কীভাবে দেখছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার ওপর যথেষ্ট চাপ ও ইউক্রেনের জন্য স্পষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকলেই কেবল এই যুদ্ধ বাস্তবসম্মতভাবে শেষ করা সম্ভব।’ ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেনেভার বৈঠকটি হবে বন্ধ দরজার আড়ালে। সেখানে গণমাধ্যম উপস্থিত থাকবে না। এর আগে চলতি বছর আবুধাবিতে দুই দফা আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এতে লাখো মানুষ নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা যুদ্ধের ক্ষতে জর্জরিত। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ও ২০২২ সালে হামলা চালানোর আগে মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো। যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে কৌশলগত ও শক্তভাবে সুরক্ষিত বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার চায় মস্কো। রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে স্পর্শকাতর এ দাবি কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়ার সঙ্গে কোনো প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার আগে পশ্চিমাদের কাছ থেকে শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করেছে তারা। থেকে প্রাপ্ত তথ্যের এএফপি বিশ্লেষণ অনুসারে, ইউক্রেন সমপ্রতি যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, গত সপ্তাহে ২০১ বর্গকিলোমিটার পুনরুদ্ধার করেছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য এএফপির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ২০১ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে। আইএসডব্লিউ বলেছে, রুশ বাহিনীর স্টারলিংকে প্রবেশাধিকার না থাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এতে ইউক্রেন পাল্টা হামলা চালানোর সুবিধা পেয়েছে। স্টারলিংক হলো ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএঙ্রে মালিকানাধীন একটি বৈশ্বিক উপগ্রহ-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা, যা পৃথিবীর দুর্গম এলাকাগুলোতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করে। নতুন করে দখল করা এলাকা মূলত জাপোরিঝঝিয়া শহরের প্রায় ৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। গত গ্রীষ্ম থেকে এ অঞ্চলে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। এ কেন্দ্রীয় অঞ্চলেই রয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। এটিও আলোচনার অচলাবস্থার অন্যতম বিষয়। জেনেভার আলোচনায় রাশিয়ার প্রধান আলোচক হিসেবে আবারও দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী অবস্থানের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি। ভ্লাদিমির পুতিনের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার আমরা বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই। বিশেষ করে ভূখণ্ড ও অন্যান্য মূল দাবিগুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে।’ কিয়েভের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ব্যবসায়ী ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।