Dhaka ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের প্রভাব মাথায় রেখে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ের নির্দেশ, আপাতত বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৩৫ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনায় দেশে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনিশ্চিত হওয়ায় আপাতত রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও সরকারের নেই।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে, তা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ কারণে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হতে বলা হয়েছে। তার ভাষায়, “মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কতদিন চলবে জানি না। তাই যে জ্বালানি মজুদ আছে, তা সাশ্রয়ভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছি।”

মন্ত্রী জানান, নতুন জ্বালানি সরবরাহ দেশের মজুত বাড়াতে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, সকাল ১১টার দিকে একটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং একই দিনে আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এই দুটি জাহাজ নোঙর করার পর দেশের জ্বালানি মজুত আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রেশনিং পদ্ধতিই চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “আমাদের কাছে যে মজুত আছে, সেটি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতে হবে। তাই আপাতত রেশনিং ব্যবস্থা চালু থাকবে।”

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করার চেষ্টা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ আতঙ্ক ছড়িয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে বলে গুজব ছড়াচ্ছেন। তবে সরকার এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করেনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “বিরোধীরা বলছে যুদ্ধের কারণে আমরা দাম বাড়াবো। কিন্তু আমরা আশ্বস্ত করছি, আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে লাভ নেই।”

রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইফতার, তারাবি ও সেহেরির সময় যেন বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী বেশ কয়েকটি জাহাজ পৌঁছেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা এলএনজি ও এলপিজিবাহী আটটি জাহাজ রোববার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে নোঙর করেছে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে সরকার আশ্বস্ত করলেও বাজারে কিছু জায়গায় কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবেশকদের মাধ্যমে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। তবে অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে।”

Tag :
About Author Information

যুদ্ধের প্রভাব মাথায় রেখে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ের নির্দেশ, আপাতত বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম

Update Time : ১০:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনায় দেশে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনিশ্চিত হওয়ায় আপাতত রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও সরকারের নেই।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে, তা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ কারণে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হতে বলা হয়েছে। তার ভাষায়, “মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কতদিন চলবে জানি না। তাই যে জ্বালানি মজুদ আছে, তা সাশ্রয়ভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছি।”

মন্ত্রী জানান, নতুন জ্বালানি সরবরাহ দেশের মজুত বাড়াতে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, সকাল ১১টার দিকে একটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং একই দিনে আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এই দুটি জাহাজ নোঙর করার পর দেশের জ্বালানি মজুত আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রেশনিং পদ্ধতিই চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “আমাদের কাছে যে মজুত আছে, সেটি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতে হবে। তাই আপাতত রেশনিং ব্যবস্থা চালু থাকবে।”

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করার চেষ্টা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ আতঙ্ক ছড়িয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে বলে গুজব ছড়াচ্ছেন। তবে সরকার এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করেনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “বিরোধীরা বলছে যুদ্ধের কারণে আমরা দাম বাড়াবো। কিন্তু আমরা আশ্বস্ত করছি, আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে লাভ নেই।”

রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইফতার, তারাবি ও সেহেরির সময় যেন বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী বেশ কয়েকটি জাহাজ পৌঁছেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা এলএনজি ও এলপিজিবাহী আটটি জাহাজ রোববার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে নোঙর করেছে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে সরকার আশ্বস্ত করলেও বাজারে কিছু জায়গায় কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবেশকদের মাধ্যমে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। তবে অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে।”