Dhaka ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যাত্রাবাড়ীতে বৃদ্ধ দম্পতির বাসায় ডাকাতি, বালিশচাপায় স্বামীর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ১৮৭ Time View

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা এলাকায় গ্রিল কেটে একদল ডাকাত বৃদ্ধ দম্পতির বাসায় ঢুকে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বাড়ির মালিক ইসমাইল খান (৮০) মারা গেছেন, আর তার স্ত্রী সালেহা বেগম (৭৫) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন জানান, বিবির বাগিচা এলাকার ইত্যাদির গলির খান ভিলার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন ইসমাইল খান ও সালেহা বেগম। (সোমবার) রাতের কোনো এক সময়ে ডাকাতরা বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা বৃদ্ধ দম্পতিকে মারধর করে এবং বাসার টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার ভোরে দম্পতিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক ইসমাইল খানকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্ত্রী সালেহা বেগম এখনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নিহতের মেয়ে সালমা বেগম জানান, তাদের উত্তর বিবির বাগিচার ইত্যাদির গলিতে পাঁচতলা একটি বাড়ি রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় তার বাবা-মা থাকতেন। তিনি নিজে স্বামীর সঙ্গে রায়েরবাগের বাসায় থাকেন। সালমার ভাষ্য, ডাকাতরা তাদের বাসায় ঢুকে প্রথমেই মা-বাবাকে জিম্মি করে এবং মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তার বাবাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়, আর মাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, ইসমাইল খানের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ঠিক কী কী জিনিসপত্র লুট হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছে।

এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃদ্ধ দম্পতির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রতিবেশীরা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

যাত্রাবাড়ীতে বৃদ্ধ দম্পতির বাসায় ডাকাতি, বালিশচাপায় স্বামীর মৃত্যু

Update Time : ০৯:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা এলাকায় গ্রিল কেটে একদল ডাকাত বৃদ্ধ দম্পতির বাসায় ঢুকে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বাড়ির মালিক ইসমাইল খান (৮০) মারা গেছেন, আর তার স্ত্রী সালেহা বেগম (৭৫) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন জানান, বিবির বাগিচা এলাকার ইত্যাদির গলির খান ভিলার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন ইসমাইল খান ও সালেহা বেগম। (সোমবার) রাতের কোনো এক সময়ে ডাকাতরা বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা বৃদ্ধ দম্পতিকে মারধর করে এবং বাসার টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার ভোরে দম্পতিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক ইসমাইল খানকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্ত্রী সালেহা বেগম এখনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নিহতের মেয়ে সালমা বেগম জানান, তাদের উত্তর বিবির বাগিচার ইত্যাদির গলিতে পাঁচতলা একটি বাড়ি রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় তার বাবা-মা থাকতেন। তিনি নিজে স্বামীর সঙ্গে রায়েরবাগের বাসায় থাকেন। সালমার ভাষ্য, ডাকাতরা তাদের বাসায় ঢুকে প্রথমেই মা-বাবাকে জিম্মি করে এবং মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তার বাবাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়, আর মাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, ইসমাইল খানের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ঠিক কী কী জিনিসপত্র লুট হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছে।

এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃদ্ধ দম্পতির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রতিবেশীরা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।