Dhaka ০৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যত্ন নিন মুকুলের, ভাল  ফলন আসবে আমের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৫:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪
  • ৪১৬ Time View

ডেস্ক রিপোর্টঃ বসন্তের শুরুতে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আমের মুকুলের মিষ্টি গন্ধে সুবাশিত হয়ে উঠবে দেশ।

অনেকেই শখ করে আমগাছ রোপণ করেন, ভালো ফলনের আশায় কিন্তু সময় মতো সামান্য যত্নের অভাবে এবং পোকা ও রোগের আক্রমণের কারণে আমাদের সেই আশা পূরণ হয় না। আমের মুকুল ও গুটি ঝড়ে যায়। অথচ সময় মতো একটু যত্ন নিলেই আমরা পেতে পারি ভাল ফলন ও সুস্বাদু আমের স্বাদ।

আমগাছে বর্ষার আগে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে একবার এবং বর্ষার পর আশ্বিন-কার্তিক মাসে আর একবার সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের নিচে যতটুকু স্থানে গাছের ছায়া পড়ে, ততটুকু স্থানের মাটি কুপিয়ে এই সার প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পরপরই হালকা সেচ দিতে হবে। গাছের বয়স ১ থেকে ৪ বছর হলে গোবর ১৫ কেজি, ইউরিয়া ২৫০ গ্রাম, টিএসপি ২৫০ গ্রাম, এমওপি ১০০ গ্রাম, জিপসাম ১০০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১০ গ্রাম ও বরিক এসিড ২০ গ্রাম দুই ভাগ করে বর্ষার আগে ও পরে প্রয়োগ করতে হবে। গাছের বয়স ৮ থেকে ১০ বছর হলে গোবর ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৭৫০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ২৫০ গ্রাম, জিপসাম ২৫০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১৫ গ্রাম ও বরিক এসিড ৩০ গ্রাম এবং গাছের বয়স ১১ থেকে ১৫ বছর হলে গোবর ৩০ কেজি, ইউরিয়া ১০০০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ৪০০ গ্রাম, জিপসাম ৩৫০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১৫ গ্রাম ও বরিক এসিড ৩০ গ্রাম একই নিয়মে প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া গাছের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছর হলে গোবর ৪০ কেজি, ই্‌উরিয়া ১৫০০ গ্রাম, টিএসপি ৭৫০ গ্রাম, এমওপি ৫০০ গ্রাম, জিপসাম ৪০০ গ্রাম, জিংক সালফেট ২০ গ্রাম ও বরিক এসিড ৪০ গ্রাম বছরে দুই বারে প্রয়োগ করতে হবে। সাথে সাথে অঞ্চল ভেদে আমের মুকুল ফোটার শেষ পর্যায়ে একবার এবং আম মোটরদানার মতো হলে আর একবার বেসিন পদ্ধতিতে সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

ফুল আসার সময় শোষক পোকা আমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এরা কচি ডগা ও মুকুল থেকে রস চুষে খায়। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে যায়। এ ছাড়া এ পোকার নিম্ফগুলো রস চোষার সময় আঠালো মধুরস নিঃসরণ করে- যা মুকুলে আটকে গিয়ে পরাগায়ণ ব্যাহত করে এবং মুকুলে কালো ছত্রাকের জন্ম দেয়।

পোকার আক্রমন ও ছত্রাক রোধে আমগাছে তিন ধাপে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক পরিমানমত একত্রে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক (যেমনঃ রিপকর্ড) কার্বোন্ডাজিম/ প্রপিকোনাজল গ্রুপের  ছত্রাকনাশক (যেমনঃ ডাইথেম এম ৪৫) প্রয়োগ করতে হবে।

ধাপ ১: মুকুল আসার পূর্বে উপরোক্ত দুটি ঔষধ একত্রে মিশিয়ে গাছেরর গোড়া থেকে পাতা পর্যন্ত ভালভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। ধাপ ২: মুকুল আসবে কিন্তু ফুল ফুটবে না এমন অবস্থায় আরেকবার স্প্রে করতে হবে। ধাপ ৩: আমের গুটি মটর দানার মত হলে শেষবারের মত স্প্রে করতে হবে।

আমের বৃদ্ধি পর্যায়ে অঞ্চল ভেদে প্রয়োজনে নিয়মিত পানি সেচ দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়ায় সেচের পানি দীর্ঘ সময় জমে না থাকে। গাছ সেচের পানি সবটুকু শুষে নেয়ার পর গোড়া শুকিয়ে গেলে প্রয়োজনে পুনরায় সেচ দিতে হবে। বর্ষার শেষে গাছপ্রতি ৫০ গ্রাম হারে বরিক এসিড অথবা ১০০ গ্রাম হারে বোরাস্ক সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের গোড়ার মাটিতে বোরণ প্রয়োগ করা সম্ভব না হলে আমের মুকুল আসার আগে প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম সলোবর মিশিয়ে গাছে স্প্রে করলেও সুফল পাওয়া যাবে।

Tag :
About Author Information

যত্ন নিন মুকুলের, ভাল  ফলন আসবে আমের

Update Time : ০৭:০৫:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪

ডেস্ক রিপোর্টঃ বসন্তের শুরুতে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আমের মুকুলের মিষ্টি গন্ধে সুবাশিত হয়ে উঠবে দেশ।

অনেকেই শখ করে আমগাছ রোপণ করেন, ভালো ফলনের আশায় কিন্তু সময় মতো সামান্য যত্নের অভাবে এবং পোকা ও রোগের আক্রমণের কারণে আমাদের সেই আশা পূরণ হয় না। আমের মুকুল ও গুটি ঝড়ে যায়। অথচ সময় মতো একটু যত্ন নিলেই আমরা পেতে পারি ভাল ফলন ও সুস্বাদু আমের স্বাদ।

আমগাছে বর্ষার আগে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে একবার এবং বর্ষার পর আশ্বিন-কার্তিক মাসে আর একবার সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের নিচে যতটুকু স্থানে গাছের ছায়া পড়ে, ততটুকু স্থানের মাটি কুপিয়ে এই সার প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পরপরই হালকা সেচ দিতে হবে। গাছের বয়স ১ থেকে ৪ বছর হলে গোবর ১৫ কেজি, ইউরিয়া ২৫০ গ্রাম, টিএসপি ২৫০ গ্রাম, এমওপি ১০০ গ্রাম, জিপসাম ১০০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১০ গ্রাম ও বরিক এসিড ২০ গ্রাম দুই ভাগ করে বর্ষার আগে ও পরে প্রয়োগ করতে হবে। গাছের বয়স ৮ থেকে ১০ বছর হলে গোবর ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৭৫০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ২৫০ গ্রাম, জিপসাম ২৫০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১৫ গ্রাম ও বরিক এসিড ৩০ গ্রাম এবং গাছের বয়স ১১ থেকে ১৫ বছর হলে গোবর ৩০ কেজি, ইউরিয়া ১০০০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ৪০০ গ্রাম, জিপসাম ৩৫০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১৫ গ্রাম ও বরিক এসিড ৩০ গ্রাম একই নিয়মে প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া গাছের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছর হলে গোবর ৪০ কেজি, ই্‌উরিয়া ১৫০০ গ্রাম, টিএসপি ৭৫০ গ্রাম, এমওপি ৫০০ গ্রাম, জিপসাম ৪০০ গ্রাম, জিংক সালফেট ২০ গ্রাম ও বরিক এসিড ৪০ গ্রাম বছরে দুই বারে প্রয়োগ করতে হবে। সাথে সাথে অঞ্চল ভেদে আমের মুকুল ফোটার শেষ পর্যায়ে একবার এবং আম মোটরদানার মতো হলে আর একবার বেসিন পদ্ধতিতে সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

ফুল আসার সময় শোষক পোকা আমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এরা কচি ডগা ও মুকুল থেকে রস চুষে খায়। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে যায়। এ ছাড়া এ পোকার নিম্ফগুলো রস চোষার সময় আঠালো মধুরস নিঃসরণ করে- যা মুকুলে আটকে গিয়ে পরাগায়ণ ব্যাহত করে এবং মুকুলে কালো ছত্রাকের জন্ম দেয়।

পোকার আক্রমন ও ছত্রাক রোধে আমগাছে তিন ধাপে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক পরিমানমত একত্রে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক (যেমনঃ রিপকর্ড) কার্বোন্ডাজিম/ প্রপিকোনাজল গ্রুপের  ছত্রাকনাশক (যেমনঃ ডাইথেম এম ৪৫) প্রয়োগ করতে হবে।

ধাপ ১: মুকুল আসার পূর্বে উপরোক্ত দুটি ঔষধ একত্রে মিশিয়ে গাছেরর গোড়া থেকে পাতা পর্যন্ত ভালভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। ধাপ ২: মুকুল আসবে কিন্তু ফুল ফুটবে না এমন অবস্থায় আরেকবার স্প্রে করতে হবে। ধাপ ৩: আমের গুটি মটর দানার মত হলে শেষবারের মত স্প্রে করতে হবে।

আমের বৃদ্ধি পর্যায়ে অঞ্চল ভেদে প্রয়োজনে নিয়মিত পানি সেচ দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়ায় সেচের পানি দীর্ঘ সময় জমে না থাকে। গাছ সেচের পানি সবটুকু শুষে নেয়ার পর গোড়া শুকিয়ে গেলে প্রয়োজনে পুনরায় সেচ দিতে হবে। বর্ষার শেষে গাছপ্রতি ৫০ গ্রাম হারে বরিক এসিড অথবা ১০০ গ্রাম হারে বোরাস্ক সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের গোড়ার মাটিতে বোরণ প্রয়োগ করা সম্ভব না হলে আমের মুকুল আসার আগে প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম সলোবর মিশিয়ে গাছে স্প্রে করলেও সুফল পাওয়া যাবে।